খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক না থাকায় সপ্তাহের ছয় দিনই বন্ধ থাকছে অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রসূতি ও জরুরি অস্ত্রোপচারের রোগীরা। জটিল পরিস্থিতিতে রোগীদের প্রায় ৬৬ কিলোমিটার দূরে খুলনা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে।
এতে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে বাড়তি ঝুঁকি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন ডা. জহিরুল ইসলাম। তবে তিনি সংযুক্তিতে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সপ্তাহে চার দিন এবং কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক দিন দায়িত্ব পালন করেন। ফলে পাইকগাছায় তিনি মাত্র এক দিন দায়িত্ব পালন করছেন।
এ কারণে ওই এক দিন ছাড়া বাকি ছয় দিন হাসপাতালে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিনই অস্ত্রোপচারের জন্য রোগী আসে। বিশেষ করে প্রসূতি রোগীদের জরুরি সিজারিয়ান প্রয়োজন হলেও অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক না থাকায় তাঁদের অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে প্রসূতি বিভাগে ১৫৫ জন রোগী ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জনের স্বাভাবিক প্রসব এবং ১১ জনের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়েছে। চলতি আগস্ট মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ১২৫ জন প্রসূতি। এ সময় ১৫ জনের স্বাভাবিক প্রসব এবং ৮ জনের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
এদিকে জুলাই মাসে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ১ হাজার ৬৯৭ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। দৈনিক গড়ে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ৬৮ জন। আগস্টের ২৪ তারিখ পর্যন্ত জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪১৫ জন রোগী।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে এই হাসপাতালে প্রতি মাসে গড়ে ২০ থেকে ৩০টি অস্ত্রোপচার হতো। বর্তমানে অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসকের সংকটে অস্ত্রোপচারের সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সাকিলা আফরোজ বলেন, “প্রতিদিন অপারেশনের জন্য রোগী আসে। কিন্তু অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক না থাকায় নানা জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।”
অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক ডা. জহিরুল ইসলাম জানান, প্রায় আড়াই বছর ধরে তিনি পাইকগাছা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী ও সন্তান অসুস্থ থাকায় খুলনা শহরের কাছাকাছি থাকার জন্য তিনি পরিচালকের কাছে আবেদন করেন। মানবিক বিবেচনায় আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। তবে তাঁকে এখনও পাইকগাছা ও কয়রা হাসপাতালে সপ্তাহে এক দিন করে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, “ডা. জহিরুল ইসলাম পাইকগাছায় পদায়িত থাকলেও সংযুক্তিতে ফুলতলায় চার দিন দায়িত্ব পালন করছেন। হাসপাতালে সার্বক্ষণিক একজন অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু এ উপজেলার মানুষ নয়, আশপাশের কয়রা, দাকোপ, আশাশুনি ও তালা উপজেলার মানুষও চিকিৎসা নিতে আসেন। তাই দ্রুত একজন নিয়মিত অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তাঁদের আশঙ্কা, জরুরি প্রসবকালীন সময়ে সময়মতো অস্ত্রোপচার না হলে মা ও নবজাতকের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত হলে রোগীদের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যয় দুটোই কমবে।
এফপি/র