পিরোজপুরের নেছারাবাদে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে দুই দিন ধরে অবস্থান ও অনশন করছেন সানিয়া আক্তার মিম (১৭) নামে এক তরুণী। এ ঘটনায় প্রেমিক রাতুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা দিয়ে চলে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার জলাবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব-কামারকাঠী গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
সানিয়া আক্তার মিম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফার্দাবাদ গ্রামের মৃত জালাল হোসেনের মেয়ে। আর অভিযুক্ত মো. রাতুল একই উপজেলার বাসিন্দা মো. বাদল শেখের ছেলে। তিনি পেশায় একজন চালক।
মিমের দাবি, ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাতুলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় পাঁচ মাস আগে বিষয়টি দুই পরিবারকে জানানো হয়। এরপর রাতুলের পরামর্শে তিনি নেছারাবাদে তাঁর খালুর বাড়িতে আসেন। পরে রাতুলের বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা এ সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, রাতুলের মা তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। পরে রাতুলকে বাড়ি থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা দিয়ে চলে যান। বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত তিনি ওই বাড়িতে অবস্থান করবেন বলেও জানান মিম।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সোহাগ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এসে ওই তরুণী বিয়ের দাবিতে রাতুলের বাড়িতে অবস্থান করছেন। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলেও রাতুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা দিয়ে চলে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান হয়নি।
মিমের খালু আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে রাতুলের সঙ্গে মিমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে রাতুলের পরিবার রাজি হয়নি। পরে রাতুলের কথায় মিম তাঁর বাড়িতে গেলে সেখানে অপমানজনক আচরণের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান চান তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে রাতুল মুঠোফোনে বলেন, মিমের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। পারিবারিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলে তাঁর পরিবার রাজি হয়নি। পরিবারের সিদ্ধান্তের বাইরে তিনি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবেন না।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফপি/র