শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে নাটোরের বঙ্গজলে শ্রী শ্রী রামচন্দ্র মন্দিরে দেখা গেছে ব্যতিক্রমী এক আয়োজন। এবার মাটির প্রচলিত প্রতিমার গায়ে সোনালি রঙের ভুট্টা বসিয়ে তৈরি করা হয়েছে দুর্গাপ্রতিমা। ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
নাটোরে এর আগেও ধান, পাট, মুগডালসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ব্যবহার করে ব্যতিক্রমী প্রতিমা তৈরির নজির রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার বঙ্গজল শ্রী শ্রী রামচন্দ্র মন্দিরের পূজা উদযাপন কমিটি ভুট্টা দিয়ে প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেয়।
মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমা তৈরিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ কেজি ভুট্টা ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা তৈরিতে সময় লেগেছে প্রায় দুই মাস। প্রতিমাকে আকর্ষণীয় রূপ দিতে ১০ থেকে ১২ জন যুবক দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। প্রতিমায় রয়েছে দেবী দুর্গা, অসুর, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও সিংহ মোট সাতটি প্রতিমা।
প্রথমে কাঠ, বাঁশ, পাট ও বিচালি দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর তাতে মাটি দিয়ে প্রতিমার আকৃতি দেওয়া হয়। মাটির ওপর আঠার সাহায্যে একটি একটি করে সোনালি রঙের ভুট্টা নিপুণভাবে হাতে বসিয়ে প্রতিমার অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়।
প্রতিমা তৈরির কাজে যুক্ত যুবক পৃথিবী বলেন, প্রায় দুই মাস ধরে তারা এই প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। তুলির সাহায্যে আঠা লাগিয়ে একেকটি ভুট্টা অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে প্রতিমার গায়ে বসানো হয়েছে। ইতোমধ্যে মন্দিরে আসা দর্শনার্থী ও অনলাইনে দেশ-বিদেশের অনেক মানুষ এই প্রতিমার প্রশংসা করেছেন। বড় ভাইদের সহযোগিতায় তারা দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রতিমাটি তৈরি করছেন।
শ্রী শ্রী রামচন্দ্র মন্দিরের পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিধান দেবনাথ বলেন, “আমাদের এলাকার ছোটরা সাহস করে ভুট্টা দিয়ে এমন ব্যতিক্রমী প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।এখন পর্যন্ত প্রতিমা তৈরিতে প্রায় ১০০ কেজি ভুট্টা ব্যবহার হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাদের প্রতিমাটি প্রশংসা কুড়াচ্ছে।”
মন্দির কমিটির সদস্যরা জানান, নাটোরে এর আগে বিভিন্ন কৃষিপণ্য দিয়ে ব্যতিক্রমী প্রতিমা তৈরি হলেও ভুট্টা দিয়ে এমন আয়োজন এর আগে নাটোরে বা অন্য কোথাও হয়েছে কি না, তা তাদের জানা নেই। ফলে এবারের এই প্রতিমা শারদীয় দুর্গোৎসবে দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।
এফপি/অ