স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের পুরোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগকে নতুন করে রাজনীতিতে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘আজকের এনসিপির নাহিদ, হাসনাত-সারজিসরা একসময় ছাত্রলীগ করতেন। অনেকে শিবিরও করতেন। তারা যেহেতু সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং বর্তমানে ১১ দলীয় জোটে আছেন, তাদের সঙ্গে ভারতে থাকা শেখ হাসিনার একটি যোগাযোগ রয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ। এতে বোঝা যায়, জামায়াত-এনসিপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের গোপন ও পুরোনো সম্পর্ক রয়েছে।’
জামায়াত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জামায়াত ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনীতি করেছে। এরশাদের আমলে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সঙ্গে আন্দোলন করেছে এবং পরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এর মাধ্যমে জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের পুরোনো সম্পর্কের বিষয়টি বোঝা যায়। সেই সম্পর্ক ভবিষ্যতেও জোড়া লাগতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রী করেছিলেন। এর মাধ্যমে তাদের ‘রাজাকারের তকমা’ দূর করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বিএনপিকে কারও হুমকিতে ভয় না পাওয়ার কথা বলেন।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রসঙ্গে শাহে আলম বলেন, বিএনপির নেতারা অতীতে বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে ফটোশুট করেছেন, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যথেষ্ট সহায়তা করেননি। বর্তমান সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কাজ করছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রধানমন্ত্রী অভিনয় ও নাটক করতে এখানে আসেননি। তিনি একশ মানুষকে নতুন ঘর দিয়েছেন, দুইশ মানুষকে চাল-ডালসহ ত্রাণ দিয়েছেন। আজকেও তিনি আমাকে কোটি টাকা অনুদান দিতে এখানে পাঠিয়েছেন।’
আগামী বছরের জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে উল্লেখ করে মীর শাহে আলম দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি একক প্রার্থীকে সমর্থন দেবে এবং দল যাকে সমর্থন করবে, নেতাকর্মীদের তার পক্ষেই কাজ করতে হবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী চৌধুরী রওশন ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ সময় বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবারকে ঘর নির্মাণ ও পুনর্বাসনের জন্য পরিবারপ্রতি ৩০ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে এসব সহায়তার চেক তুলে দেন।
এফপি/র