ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে লিজ নেওয়া পুকুরের পানি সেচে মাছ লুট, চাঁদা দাবি, মাছচাষিকে মারধর ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এজাহারনামীয় তোবারক আলী নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।গত ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিম পাশে অবস্থিত হাতিয়া পুকুরে এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাইদুর রহমান বাদী হয়ে রাণীশংকৈল থানায় মামলা করেন। তিনি উপজেলার বারঘরিয়া গ্রামের আঃ সামাদের ছেলে। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে সাইদুর রহমান ও তাঁর সহযোগীরা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অমল কুমার রায়ের কাছ থেকে হাতিয়া পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। পুকুরে রুই, কাতলা, পুঁটি, মৃগেল, কালবাউস, গ্রাসকার্প ও তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করছিলেন তাঁরা। এজাহারে পুকুরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ মণ মাছের পোনা অবমুক্ত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন তোবারক আলী, মোজাম্মেল, শরিফ, টনিক, করিমুল হক ও শুকুরদিসহ ১৩ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে পুকুরে তিনটি স্যালো মেশিন বসিয়ে পানি সেচে মাছ ধরতে শুরু করেন। এ সময় সাইদুর রহমান ও তাঁর সহযোগীরা বাধা দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে মারধর করেন এবং তাঁর পকেটে থাকা এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। পুলিশের উপস্থিতির খবর পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাইদুর রহমান বলেন, “আমরা এনজিও ও বিভিন্ন স্থান থেকে ঋণ নিয়ে এই পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেছিলাম। আসামিরা সম্পূর্ণ অন্যায় ও বেআইনিভাবে আমাদের সর্বস্বান্ত করেছে। আমার বিপুল পরিমাণ মাছ চুরি ও মারধর করে নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও আইনি প্রতিকার চাই।”
এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী মুঠোফোনে জানান, এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। এজাহারনামীয় আসামি তোবারক আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এফপি/মিব