২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর নাম ঘোষণার অপেক্ষা প্রায় শেষ। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটির ৭০তম আসর।
গতবারের বিজয়ী উসমান দেম্বেলের উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে ফুটবলবিশ্বে চলছে আলোচনা। ২০২৬ সালের অনুষ্ঠান ও তারিখের বিষয়টি উয়েফার ঘোষণায় নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রদত্ত প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে সম্ভাব্য পাঁচ দাবিদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন, ফ্রান্সের মাইকেল অলিসে, স্পেনের লামিনে ইয়ামাল, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও স্পেনের রদ্রির নাম। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের মূল বিশ্লেষণটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ব্যালন ডি’অরের ভোটে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলীয় সাফল্য, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অবদান এবং ক্রীড়াসুলভ আচরণ বিবেচনা করা হয়। তাই শুধু গোলসংখ্যা নয়, বড় প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের অবদানও পুরস্কার জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
হ্যারি কেইন
বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন ২০২৫–২৬ মৌসুমে দুর্দান্ত গোল করার সামর্থ্য দেখিয়েছেন। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স তাঁকে ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় রেখেছে।
বক্সের ভেতরে কার্যকর উপস্থিতি, গোল করার ধারাবাহিকতা এবং আক্রমণে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা কেইনের বড় শক্তি। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলীয় অর্জনও ভোটারদের বিবেচনায় আসতে পারে।
মাইকেল অলিসে
বায়ার্ন মিউনিখ ও ফ্রান্সের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় মাইকেল অলিসে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর দক্ষতার জন্যও পরিচিত। তাঁর গতি, ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতা দলের আক্রমণকে আরও কার্যকর করে তোলে।
২০২৫–২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স তাঁকে সম্ভাব্য দাবিদারদের আলোচনায় এনেছে। তবে তাঁর গোল ও অ্যাসিস্টের নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশের আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
লামিনে ইয়ামাল
বার্সেলোনা ও স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল ইতিমধ্যে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড়। ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ, ড্রিবলিং, সুযোগ তৈরি এবং গোল করার দক্ষতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
বয়সে তরুণ হলেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছেন ইয়ামাল। ক্লাব ফুটবলে তাঁর পারফরম্যান্স এবং স্পেনের হয়ে অবদান ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে তাঁকে শক্ত অবস্থানে রাখতে পারে।
তবে পুরস্কার জিততে হলে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পাশাপাশি মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিকতা ও দলীয় সাফল্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
কিলিয়ান এমবাপ্পে
রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল করার অসাধারণ ক্ষমতার জন্য বিশ্ব ফুটবলে সুপরিচিত। গতি, নিখুঁত ফিনিশিং এবং বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার সামর্থ্য তাঁর প্রধান শক্তি।
২০২৬ বিশ্বকাপে এমবাপ্পে আট ম্যাচে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন বলে ফিফার প্রকাশিত তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্বকাপে তাঁর এই পারফরম্যান্স ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ক্লাব পর্যায়ে দলীয় সাফল্য এবং পুরো মৌসুমের পারফরম্যান্সও চূড়ান্ত মূল্যায়নে বিবেচিত হবে।
রদ্রি
ম্যানচেস্টার সিটি ও স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করা এবং সতীর্থদের সঙ্গে খেলার সংযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
২০২৫–২৬ মৌসুমে চোটের কারণে তাঁর মাঠে থাকার সময় সীমিত হয়ে থাকলেও, স্পেনের হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে স্পেনের শিরোপা জয়ের পথে রদ্রি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বল পুরস্কার জেতেন।
মাঝমাঠে তাঁর প্রভাব, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং দলকে ভারসাম্য দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে চোটের কারণে মাঠে কম সময় কাটিয়ে থাকলে সেটি তাঁর মূল্যায়নে প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে কেইন, অলিসে, ইয়ামাল, এমবাপ্পে ও রদ্রির পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা থাকলেও ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারিত হবে ভোটের ফলাফলে।
এফপি/মিব