লালমনিরহাটে পৃথক দুটি হত্যা মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এর মধ্যে এক মামলায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর মামলায় এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে লালমনিরহাটের সিনিয়র দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হায়দার আলী পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৩০২ ধারায় আসামি মো. আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আতিকুল ইসলাম লালমনিরহাট জেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দাপারপাড়া মুন্সিটারী গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
আইনের বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে পারিবারিক কলহের জেরে আতিকুল তার স্ত্রী মিতু আক্তারকে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরদিন নিহতের বাবা বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
অপরদিকে, স্ত্রীর মাথায় বাঁশ দিয়ে আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করার মামলায় আসামি মো. দুলাল হোসেনকে (৪০) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালত, লালমনিরহাটের বিচারক এস. এম. শফিকুল ইসলাম। আসামি দুলাল হোসেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের মোগলীবাড়ী গ্রামের মৃত ওসমান আলীর ছেলে।
গতকাল বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আদালতের রায়ে বলা হয়, পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলেও আসামির প্রথম অপরাধ, বয়সের বিষয়, পারিবারিক ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট, তাৎক্ষণিক উত্তেজনা এবং অনুশোচনা বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে তাঁকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা প্রাপ্তির পাশাপাশি তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধ ও সন্দেহের জেরে ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল সন্ধায় পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের মোগলীবাড়ী গ্রামে স্ত্রী মোছা. সাহিদা বেগমকে বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করেন স্বামী দুলাল হোসেন।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পরদিন ১৬ এপ্রিল নিহতের ভাই আশরাফ বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।
উভয় আদালতে রায় ঘোষণার সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন। এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন।
এফপি/অ