শরীরে নকশা আঁকার মাধ্যম হিসেবে ট্যাটুর জনপ্রিয়তা বাড়লেও এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে ত্বকের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রশ্ন। ট্যাটু করার সময় ত্বকে বারবার সূচ প্রবেশ করানো হয় বলে স্টুডিওর পরিবেশ, যন্ত্রপাতি, কালি এবং পরবর্তী যত্নে একটুখানি অবহেলাও মারাত্মক সংক্রমণের কারণ হতে পারে।
পেশাদার ট্যাটু শিল্পীরা তাই কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন। নিরাপদ ট্যাটু নিশ্চিত করার প্রথম শর্ত হলো পরিচ্ছন্ন স্টুডিও। ট্যাটু করার জায়গাটি নিয়মিত মেডিকেল-গ্রেড জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার রাখা হয়। শামান ইঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্যাটু বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত যাদুবংশী হেলথ শটসকে জানান, অনেক স্টুডিও এমন সব পৃষ্ঠ ব্যবহার করে, যা সহজে পরিষ্কার করা যায় এবং যেখানে জীবাণু জমতে পারে না। নিয়মিত পরিষ্কারের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক নিয়ম থাকাও জরুরি।
স্বাস্থ্যবিধির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ট্যাটুর সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করা। পুনর্ব্যবহারযোগ্য গ্রিপ বা টিউবের মতো যন্ত্রপাতি উচ্চচাপের বাষ্পযুক্ত অটোক্লেভ মেশিনে জীবাণুমুক্ত করা হয়। তবে সূচ ও কালি রাখার ক্যাপের মতো সামগ্রী একবার ব্যবহার করেই ফেলে দেওয়া হয়, যা ডিসপোজেবল বা সিঙ্গেল-ইউজ নামে পরিচিত। গ্রাহকের সামনে নতুন সূচ ও সামগ্রী খোলা হলে তাদের মনেও স্বস্তি ও ভরসা তৈরি হয়।
ট্যাটু করার সময় শিল্পীরা গ্লাভস পরেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা পরিবর্তন করেন। সংক্রমণ এড়াতে কেউ কেউ মাস্ক, অ্যাপ্রন কিংবা হাত ঢাকার সুরক্ষা সরঞ্জামও ব্যবহার করেন। কাজের আগে গ্রাহকের ত্বকের নির্দিষ্ট অংশ ভালো করে পরিষ্কার করা হয়, প্রয়োজন অনুযায়ী লোম সরিয়ে ত্বক জীবাণুমুক্ত করা হয়। এছাড়া ট্যাটুর কালি থেকেও দূষণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। বড় বোতল থেকে বারবার কালি না নিয়ে একবার ব্যবহারযোগ্য ছোট ক্যাপে কালি নেওয়া হয় এবং ব্যবহারের পর তা ফেলে দেওয়া হয়। একই সূচ বারবার কালি বা অন্য কোথাও ডুবিয়ে ব্যবহার না করার ব্যাপারেও শিল্পীরা সতর্ক থাকেন।
ট্যাটু করা শেষ মানেই সব কাজ শেষ নয়। নতুন ট্যাটুর ত্বক কীভাবে পরিষ্কার রাখতে হবে, কোন মলম ব্যবহার করা উচিত এবং নিরাময়ের সময় কী করা যাবে না, সে বিষয়ে গ্রাহককে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়। নতুন ট্যাটুকে ধুলোবালি ও দূষণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে শুরুতে স্টেরাইল ব্যান্ডেজ বা উপযুক্ত র্যাপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। সময়ের সঙ্গে ট্যাটুশিল্পের প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যবিধিও উন্নত হচ্ছে। তাই অনেক ট্যাটু শিল্পী নিয়মিত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মশালা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে জীবাণুনাশক ব্যবহারের নতুন পদ্ধতি ও উন্নত প্রযুক্তি সম্পর্কে নিজেদের আপডেট রাখেন।
তাই ট্যাটু করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু সুন্দর নকশা বা শিল্পীর দক্ষতা দেখে থেমে গেলে চলবে না। স্টুডিওর স্বাস্থ্যবিধি কেমন, জায়গাটি পরিষ্কার কি না, নতুন ডিসপোজেবল সূচ ও কালি ক্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, পুনর্ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম কীভাবে জীবাণুমুক্ত করা হয় এবং পরবর্তী যত্নের নির্দেশনা দেওয়া হয় কি না, এসব বিষয় ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। শরীরে ট্যাটু হলো একটি দীর্ঘস্থায়ী শিল্পকর্ম, তাই পছন্দের নকশার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ পরিবেশের দিকটিও সমান গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
এফপি/অ