রান্নাঘরের মসলার তাক থেকে শুরু করে হাজার বছরের প্রাচীন চিকিৎসাশাস্ত্র—সবখানেই মেথির এক বিশেষ ঐতিহ্য রয়েছে। আয়ুর্বেদ, ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা এবং পশ্চিমা ভেষজ চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত এই উপাদানের চমৎকার পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা তুলে ধরেছেন ন্যাচারোপ্যাথিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডক্টর জ্যাকব হিল।
মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ভারতীয় উপমহাদেশে জন্ম নেওয়া মেথি একই সাথে ভেষজ, মসলা ও সবজি হিসেবে পরিচিত। এর ইংরেজি নামের উৎস অর্থ ‘গ্রিক খড়’। স্বাদ কিছুটা তেতো, ভেষজ বা বাদামের মতো হলেও এর মিষ্টি গন্ধ অনেকটা ম্যাপেল সিরাপের মতো। মেথির বীজ ফাইবার, প্রোটিন, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়ামে ভরপুর।
অন্যদিকে, এর সবুজ পাতায় ক্যালরি অনেক কম হলেও মেলে প্রচুর ভিটামিন এ এবং সি।
স্বাস্থ্য উপকারিতা
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ: টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে মেথি সহায় হতে পারে বলে প্রাথমিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে। তবে ডায়াবেটিসের মূল ওষুধের বিকল্প হিসেবে এটি কাজ করে না।
দুগ্ধ উৎপাদনে ভূমিকা: গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকালে দুধের জোগান বাড়াতে অনেকে মেথি ব্যবহার করেন।
তবে এর বেশিরভাগ প্রমাণই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাভিত্তিক, জোরালো বৈজ্ঞানিক গবেষণার অভাব রয়েছে।
অন্যান্য প্রচলিত ধারণা ও মেথির সাপ্লিমেন্ট:
অনেকে মনে করেন মেথি হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করে, বুকজ্বালা ও রক্তে কোলেস্টেরল কমায় এবং পুরুষের টেস্টিসটেরন বাড়ায়। তবে চিকিৎসকদের মতে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে এসব দাবির পক্ষে এখনো পর্যাপ্ত তথ্য মেলেনি।
খাবারের সাথে পরিমিত মেথি খাওয়া পুরোপুরি নিরাপদ হলেও, এর নির্যাস বা সাপ্লিমেন্ট (ট্যাবলেট) বেশি পরিমাণে খেলে ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত কমে যাওয়া কিংবা অ্যালার্জির মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, ডায়াবেটিস বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবনকারী এবং হরমোনজনিত জটিলতায় ভোগা রোগীদের ডাক্তারদের পরামর্শ ছাড়া মেথি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ এড়িয়ে চলা উচিত।
এফপি/অ