মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার হাসাইল-কামারখাড়া আঞ্চলিক সড়কের বাইনখাড়া জোড়া ব্রিজ সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ ফসলি জমি ও জলাশয় বালু দিয়ে ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল ব্রিজের পানি প্রবাহের মুখ নামমাত্র খোলা রেখে চারপাশের বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি বালু দিয়ে ভরাট করছে। এতে স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাইনখাড়া জোড়া ব্রিজের আশপাশের এলাকায় ড্রেজার ও বালুর পাইপ স্থাপন করে ফসলি জমি ভরাট করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, বর্ষাকালে ব্রিজের নিচ দিয়ে স্বাভাবিক পানি প্রবাহিত হয়। পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে এসব জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি ব্রিজের পানি চলাচলের মুখের পাশে বালু ফেলে জমি ভরাট করায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, ব্রিজের পানি প্রবাহের পথ সংকুচিত বা বন্ধ হয়ে গেলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এতে আশপাশের বসতবাড়ি ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “এমনিতেই উপজেলার কৃষিজমি দিন দিন কমে যাচ্ছে। তার ওপর জোড়া ব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনার পানি চলাচলের মুখের পাশে যেভাবে রাতারাতি বালু ফেলা হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। আমরা বারবার বারণ করলেও তারা কারও কথা শুনছে না।”
স্থানীয় কৃষকরা অবিলম্বে বালু ভরাট বন্ধ করা এবং বাইনখাড়া জোড়া ব্রিজের স্বাভাবিক পানি চলাচলের পথ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে ড্রেজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এই জমির মালিকও নই। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে যতটুকু জানি, এখানে একটি হাসপাতাল হবে।”
এ বিষয়ে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানীয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এফপি/অ