Dhaka, Thursday | 1 October 2026
         
English Edition
   
Epaper | Thursday | 1 October 2026 | English
শিরোনাম:

শরীয়তপুর আদালত চত্বরে তিন আইনজীবীকে মারধর

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১১ এএম  (ভিজিটর : ৬৮)

শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে তিন আইনজীবীকে মারধর ও একটি চেম্বারে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির একটি পক্ষের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার আইনজীবীরা হলেন সানোয়ার মল্লিক, শাহীন খান ও তানিয়া সুলতানা। তারা বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সানোয়ার মল্লিককে জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের সিঁড়িতে এবং শাহীন খানকে ও তানিয়া সুলতানাকে আইনজীবী সমিতির পাশের একটি ভবনে তাদের চেম্বারে গিয়ে মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনকে কেন্দ্র করে কয়েকজন আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীর কর্মসূচির প্রতিবাদে বুধবার বেলা ১১টার দিকে আদালত চত্বরে মিছিল করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

অভিযোগ রয়েছে, মিছিল চলাকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের সিঁড়িতে আইনজীবী সানোয়ার মল্লিকের ওপর হামলা চালান। তাকে সিঁড়ি থেকে টেনে-হিঁচড়ে আদালত ভবনের সামনে এনে মারধর করা হয়।

আইনজীবী সানোয়ার মল্লিক বলেন, শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে দুই দিন আগে আমরা কয়েকজন আইনজীবী মিলে কেক কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বুধবার আদালত চত্বরে মিছিল করেন। মিছিল থেকে বের হয়ে রড দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থান রক্তাক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তাদের ভয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে পারিনি। স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে আত্মগোপনে আছি।

এদিকে মিছিল শেষে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী ও সমর্থক আইনজীবী সমিতির পাশে একটি ভবনে থাকা আইনজীবী শাহীন খান জয় ও তানিয়া সুলতানার চেম্বারে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে গিয়ে তাদের মারধর করা হয় এবং শাহীন খানের চেম্বারে ভাংচুর করা হয়।

আইনজীবী শাহিন খান জয় বলেন, আমি চেম্বারে ছিলাম এসময় অতর্কিতভাবে ২০/৩০ জন লোক ‘তুই শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করছিস তোকে আওয়ামীলীগ করা ছুটামু’ বলেই আমার উপর হামলা চালায়। আমাকে কিল ঘুষি মারতে মারতে চেম্বার থেকে নিচে নামায় এবং আমার চেম্বারের ফাইলপত্র ফেলে দেয়। এসময় আমাকে বাঁচাতে আসলে অ্যাডভোকেট তানিয়াকেও মারধর করে।

আইনজীবী তানিয়া সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির ৩০ থেকে ৩৫ জন লোক শাহীন খান ও আমার চেম্বারে প্রবেশ করেন। ভয়ে শাহীন খান টয়লেটে পালিয়ে যান। হামলাকারীরা টয়লেটের দরজা ভেঙে তাকে মারধর করেন। পরে আমাকে অসভ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মারধর করা হয়।

তিনি বলেন, ঘটনার পর আমরা আতঙ্কিত হয়ে বিষয়টি সিনিয়র আইনজীবী ও আইনজীবী সমিতিকে জানিয়েছি। এ ঘটনায় কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য হামলাকারীরা হুমকিও দিয়েছেন।

তবে হামলার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি সংগঠন। ওই সংগঠনের নামে কিছু লোকজন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি করে থাকেন। এর প্রতিবাদে বিএনপি আদালত চত্বরে মিছিল করেছে। সেই মিছিল থেকে সংক্ষুব্ধ হয়ে কেউ কিছু ঘটিয়ে থাকতে পারে। কারা ঘটিয়েছে, তা আমি বলতে পারব না।

শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল ইসলাম বলেন, আদালত চত্বরে আইনজীবীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তথ্য পেয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেছি। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকেও ঘটনা জেনেছি। আইনজীবী সমিতি বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, আদালত চত্বরে আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনা শুনে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। এ বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এফপি/অ
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝