কলেরার ঝুঁকি মোকাবিলায় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় শুরু হয়েছে ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন (ওসিভি) ক্যাম্পেইন। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার প্রায় ৩ লাখ ৫৪ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে মুখে খাওয়ার কলেরা টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও মিরকাদিম পৌরসভায় পর্যায়ক্রমে ৯১টি টিকাদান কেন্দ্রে এক বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। তবে গর্ভবতী নারীসহ নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এ টিকা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা শিশুদের নিজ হাতে টিকা খাইয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন। এ সময় জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফি, সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগমসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কলেরায় আক্রান্ত হওয়ার উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেশের ১৪টি উপজেলা চিহ্নিত করে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে সারাদেশে প্রায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে কলেরার টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য অফিসের বাস্তবায়নে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, প্রথম রাউন্ডের টিকাদান ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকা দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। পূর্ণ সুরক্ষার জন্য দুই ডোজ টিকার মধ্যে অন্তত ১৪ দিনের ব্যবধান রাখা হবে।
মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম বলেন, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি কলেরা প্রতিরোধে টিকাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্ধারিত বয়সসীমার মানুষকে কর্মসূচির আওতায় এসে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে কলেরা টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণা হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে। তবে গুজবে কান না দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ এবং কর্মসূচি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন।
এফপি/ফ