Dhaka, Saturday | 22 August 2026
         
English Edition
   
Epaper | Saturday | 22 August 2026 | English
শিরোনাম:

বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা চান গ্রামবাসীরা

প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৪ পিএম  (ভিজিটর : ১০)

বসতভিটার চারদিকেই পানি। যেনো বন্যায় তলিয়ে গেছে চারপাশ। নদী কিংবা কোনো বিল নয়। তবুও বছরের প্রায় অর্ধেকটা সময় ধরে পানিতে তলিয়ে থাকে হাজার হাজার একর ফসলী জমি। শুধু কৃষি জমিই নয় জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী থাকেন দুই গ্রামের অসংখ্য পরিবার। এমন করুণ চিত্র চোখে পড়ে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদীর অববাহিকায় বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের লুছনি ও কুটিরচর এলাকায়। 

স্থানীয়রা জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বন্যার সময় দুধকুমার নদীর পানি নেমে গেলেও নামে না এই এলাকার পানি। ফলে ইরি মৌসুমে এক ফসলী চাষাবাদ হলেও আমন ও অন্যান্য ফসল চাষাবাদ করতে না পারায় ক্ষতির মুখে কৃষকরা। রাস্তাঘাট তলিয়ে থাকায় স্কুল-কলেজে যেতে পারে না ছেলে-মেয়েরা। স্বাস্থ্যসেবাসহ নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত এখানকার মানুষ। এমনকী এই এলাকার যুবক-যুবতীদের সাথে অন্য কোনো এলাকার যুবক যুবতীর বিয়ে দিতে চান না কেউ। 

এছাড়াও কৃষিপণ্য বাজারজাত করণ, হাট-বাজার করা, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন এবং দৈনন্দিন কাজে ভোগান্তির শেষ থাকে না। এমনকী বসতবাড়ির চারপাশে পানি থাকায় শিশু ও বৃদ্ধদেরকে নিয়ে মৃত্যু ঝুঁকি শঙ্কা কাটে না তাদের। অভিযোগ, প্রায় ২৫ বছর ধরে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ আর ভোগান্তি পোহালেও খোঁজ নেয় না স্থানীয় প্রশাসন কিংবা কোনো জনপ্রতিনিধি। এ অবস্থায়, বহু বছরের দুঃখ ঘোঁচাতে পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ লাইনের মাধ্যমে দুধকুমার নদীতে সংযোগ দিয়ে স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবি এলাকাবাসীর।

কুটিরচর এলাকার কৃষক আমিনুর রহমান, আজিবর রহমান, পল্লী চিকিৎসক দুলাল মিয়া জানান, দুধকুমার নদীর চরবেষ্টিত এই এলাকায় বন্যা পরবর্তী সময়ে নদীর পানি নামলেও নামে না এই এলাকার পানি। যে কারণে শুধু ইরি আবাদ ছাড়া কোনো ফসলের আবাদ হয় না। প্রতিবছর ইরি আবাদের জন্য একাধিকবার ধানের চারা লাগাতে হয় তাদের। কারণ চারা রোপনের পর ভাড়ি বৃষ্টি কিংবা বন্যা হলে, পানি নামার কোনো ব্যবস্থা না থাকায়, কষ্টের ফসলগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি লোকসান গুণতে হয় তাদের। লুছনী এলাকার রহমত আলী, জামাল উদ্দিন, সুরমান আলী জানান বছরে ৪ থেকে ৫ মাস পানিবন্দী থাকেন তারা। রাস্তাঘাট ডুবে থাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এতে করে বাজার-সদাইসহ সকল কাজে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষা বঞ্চিত হতে হচ্ছে শিশু কিশোরদের। এছাড়াও কোনো প্রসূতি নারীকে হাসপাতালেও নিতে পারেন না তারা। গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালনেও নানাভাবে ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের। এছাড়াও মাসের পর মাস পানি জমে থাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাবে পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হন তারা। উপদ্রপ বাড়ে বিভিন্ন পোকামাকরের।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, পরিদর্শনের জন্য অফিস থেকে লোক পাঠানো হয়েছিলো। তারা পরিদর্শন করে এসেছে। পানি নিষ্কাশনে জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এফপি/অ

সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝