খুলনায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় পরপর দুই ব্যক্তি খুন হয়েছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেলবণচরা থানার হরিণটানা আশিবিঘা বালুর মাঠ এলাকায় হত্যাকাণ্ড দুটি ঘটে। হত্যাকাণ্ড দুটি পরস্পরের প্রতিশোধ হিসেবে সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
শনিবার র্যাব-৬ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৬-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার টুটপাড়ার সন্ত্রাসী আলামিন হাসান সাইফিকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
এর আগে শুক্রবার গোপালগঞ্জের মাঝিগাতি বাজার ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে আলামিন হাসান সাইফি ও তাঁর সহযোগী রাফিকুল ইসলাম রাকিবকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে সাগর আহমেদ নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে শটগান, শটগানের গুলি, পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় র্যাব।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের অধিনায়ক বলেন, টুটপাড়া, হরিণটানা ও লবণচরা এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। র্যাবের দাবি, টুটপাড়ার সাইফি ‘গ্রেনেড বাবু’র সহযোগী হিসেবে এবং রফিকুল ইসলাম রাকিব পলাশ-রোহন বাহিনীর হয়ে ওই এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে নাজমুল নামের এক ব্যক্তি চুল কাটার পর রাস্তার পাশে অবস্থান করছিলেন। এ সময় রফিক বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রের মুখে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে ভিডিও কলে রেখে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়।
এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে সাইফির নেতৃত্বে ১৫-১৬ জন সদস্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হরিণটানা আশিবিঘা এলাকায় যায় বলে জানায় র্যাব। সেখানে প্রতিপক্ষের সদস্য মনজুরুলকে দেখতে পেয়ে তাঁর বাবার সামনে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
র্যাব জানায়, সন্ধ্যায় মনজুরুলকে হত্যার পর একই রাত সাড়ে ৮টার দিকে নাজমুলকেও হত্যা করে আশিবিঘা এলাকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরপর দুই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে সাইফিকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাবের অধিনায়ক আরও জানান, গ্রেপ্তার সাইফি ‘গ্রেনেড বাবু’র সহযোগী কাউয়া মিরাজের নির্দেশনায় এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ চারটি মামলা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে র্যাব।
এফপি/ফ