চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) অবশেষে পৌঁছেছে সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল। দীর্ঘ প্রায় তিন সপ্তাহ উৎপাদন বন্ধ থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার রাত কিংবা শুক্রবার সকাল নাগাদ পুনরায় চালু হতে পারে শোধনাগারের মূল প্ল্যান্ট।
ইআরএল সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব থেকে ক্রুড অয়েল বহনকারী ট্যাংকার ‘এমটি নিনেমিয়া’ বুধবার কুতুবদিয়া উপকূলে নোঙর করে। পরে রাত থেকেই লাইটার জাহাজের মাধ্যমে তেল খালাস শুরু হয়। ছয়টি লাইটার জাহাজ ব্যবহার করে ধাপে ধাপে তেল রিফাইনারির সংরক্ষণ ট্যাংকে পৌঁছানো হয়।
ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত বলেন, “সৌদি আরব থেকে আনা এক লাখ টন ক্রুড অয়েল ইতোমধ্যে রিফাইনারির ট্যাংকে পৌঁছেছে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে আজ বৃহস্পতিবার রাত অথবা শুক্রবার সকালেই দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু করা হবে ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল প্ল্যান্ট। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত উৎপাদন কার্যক্রম চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।”
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত কয়েক মাস ধরে জ্বালানি আমদানিতে বড় ধরনের সংকটে পড়ে বাংলাদেশ। এর প্রভাব পড়ে ইস্টার্ন রিফাইনারিতেও। পর্যাপ্ত ক্রুড না থাকায় এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে কম সক্ষমতায় চালানো হচ্ছিল প্ল্যান্টটি। শেষ পর্যন্ত ১৪ এপ্রিল উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার টন ডিজেল উৎপাদন সক্ষমতা থাকা এই রিফাইনারিতে সর্বশেষ বড় চালান এসেছিল ফেব্রুয়ারিতে। এরপর ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ঘিরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে জ্বালানি সরবরাহে বিপর্যয় দেখা দেয়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশের বার্ষিক জ্বালানি তেলের চাহিদা বর্তমানে প্রায় ৭২ লাখ টন। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল শোধন করে ইআরএল। এদিকে আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি ফসিল’ নামের আরেকটি জাহাজও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধঝুঁকি বাড়ায় এখন বিকল্প রুট হিসেবে ফুজাইরা ও সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করা হচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেক আন্তর্জাতিক জাহাজ মালিক মধ্যপ্রাচ্যের ঝুঁকিপূর্ণ জলপথে ট্যাংকার পাঠাতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ইআরএলের উৎপাদন পুনরায় চালু হওয়ায় ডিজেল সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে ভবিষ্যতে আবারও জ্বালানি আমদানিতে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এফপি/এমআই