সিলেটের ওসমানীনগরে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় জিরা জব্দ করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ৬০৩ বস্তা জিরা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মো. আবুল কালাম আজাদ (৪৪) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
তবে অভিযোগ উঠেছে, চোরাচালান সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের নাম পুলিশ জানলেও রহস্যজনক কারণে এজাহারে তাদের আসামি করা হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে ওসমানীনগর থানার এসআই (নি.) আশীষ চন্দ্র তালুকদারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল হামিদের বসতবাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়ি থেকে ৬০৩ বস্তা অবৈধ ভারতীয় জিরা উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের সময় উপস্থিত কয়েকজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া করে আবুল কালাম আজাদকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে মোট ১৮ হাজার ৯০ কেজি জিরা জব্দ করা হয়। প্রতিটি বস্তায় ছিল ৩০ কেজি করে জিরা।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক কালাম স্বীকার করেছেন, তিনি তার পলাতক ভাই আব্দুল মুমিনসহ সহযোগীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় জিরা দেশে এনে বাজারজাত করতেন।
এ ঘটনায় ওসমানীনগর থানার এসআই আশীষ চন্দ্র বাদী হয়ে আবুল কালাম, তার ভাই আব্দুল মুমিন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জৈন্তাপুর উপজেলার মোহন মিয়া বর্তমানে ওসমানীনগর থানা সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তবে তার নাম মামলায় না থাকায় এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মোহন মিয়া বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে আমি ভারতীয় চোরাচালানের ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি। বর্তমানে বালুর ব্যবসা করছি।” বালু ব্যবসা বৈধ কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাক্ষাতে কথা হবে।’
ওসমানীনগর থানার ওসি মুরর্শেদুল আলম ভূঁইয়া বলেন, আটক আবুল কালাম আজাদ, পলাতক আব্দুল মুমিন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আটক আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এফপি/জেএস