মোহনগঞ্জে নাদিয়া আক্তার (১০) নামে ৬ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পথে ইসরাত জাহান মিম (২০) নামে এক নারী অপহরণকারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছ জনতা। অপহরণকারী মিম আটপাড়া উপজেলার সোনাকানিয়া গ্রামের সাইদুর রহমানের মেয়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সুয়াইর গ্রামের সৌদী প্রবাসী আল আমিনের মেয়ে নাদিয়া মঙ্গলবার বিকাল ৪ টার দিকে আদর্শ নগর বাজার এলাকায় প্রাইভেট পড়তে আসে। পরে বাড়ি যাওয়ার পথে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পথে মোহনগঞ্জ শহরের বিএনপি অফিস মোড়ে জনতার হাতে আটক হয় অপহরণ কারী। অপহরণ কারীর বিরুদ্ধে মোহনগঞ্জ থানায় অপহরণ মামলা প্রক্রিয়াধীন।
অপহৃত নাদিয়ার চাচা হেলাল উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার প্রাইভেট শেষে বাড়ি যাচ্ছিলো নাদিয়া সহ আরো ৩ জন শিক্ষার্থী। এসময় অপহরণ কারী নাদিয়াকে আটকিয়ে তার আন্টি পরিচয় দিয়ে কথা বলতে থাকে। নাদিয়া তার কথা সোনার সময় অন্য বন্ধু রা চলে যায়। অপহরণ কারী নাদিয়াকে তার মায়ের জন্য কিছু কিনে দেওয়ার কথা বলে আদর্শ নগর বাজার থেকে একটি ভাড়া করা মোটরসাইকেল যোগে মোহনগঞ্জ চলে আসে। মোহনগঞ্জ এসে নাদিয়ার কানের দুল খুলে স্বর্নের দোকানে বিক্রি করে। পরে নাদিয়াকে লাল রঙের জামা কিনে দিয়ে তাকে পরিয়ে তার পরনের পুরাতন জামা ফেলে দেয়।
নাদিয়া তখনো ভাবছিলো তার আন্টিই হবে হয়তো। পরে মোহনগঞ্জ বিএনপি অফিস মোড়ে এসে একটি মোটরসাইকেল ভাড়া করে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার জন্য। নাদিয়া যেতে আপত্তি করলে তাকে চুপ থাকতে বলে।
ততক্ষণে নাদিয়া বাড়ি না ফেরায় তার সহপাঠীদের কাছে খুঁজ নিতে গেলে তারা বলে নাদিয়াকে একজন আন্টি নিয়ে গেছে। বিষয়টি রহস্যজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিক সবাই মোটর সাইকেল নিয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে লোক পাঠিয়ে খুঁজাখুজির সময় খবর পায় বিএনপি অফিস এলাকায় জনতার হাতে অপহরণ কারী আটক হয়েছে। পরে নাদিয়াকে উদ্ধার করে অপহরণ কারীকে পুলিশের কাছে তুলে দেয়া হয়।
বুধবার নাদিয়ার মা কল্পনা আক্তার বাদী হয়ে ইসরাত জাহান মিমকে আসামী করে মোহনগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।
মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, নাদিয়াকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পথে জনতার হাতে আটক হয় অপহরণ কারী। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
এফপি/অ