সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের লাশ গতকাল সোমবার রাত ১১টার দিকে পৌঁছায় শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চৌদ্দরশি গ্রামের বাড়িতে।
প্রায় ১০/১১ বছর আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জীবিকার তাগিদে যে গ্রামের মাটি ছেড়ে পরিবারের সঙ্গে এলাকা ছেড়েছিলেন,জীবনের শেষ যাত্রায় সেই গ্রামের মাটিতেই ফিরলেন তিনি। গভীর রাতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয় তাকে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যার পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সংসদ সদস্য ভবনের (ন্যাম ভবন) একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করে।
মরিয়মের আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে এর সঙ্গে জড়িত দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার ঢাকায় ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পাদন শেষে রাত ১১টার দিকে মরিয়মের লাশ তার পৈতৃক ভিটা চৌদ্দরশি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। পরে রাত ১টার দিকে জানাজা অনুষ্ঠান শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। দাফনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্যামনগর থানার ওসি শফিউল আলম পাটোয়ারী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় আইলার পর ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ পরিবার নিয়ে চৌদ্দরশি গ্রাম ছেড়ে যান। প্রথমে তারা শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুর এলাকায় এবং পরবর্তীতে যশোরের নওয়াপাড়ায় বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে প্রায় ৯ থেকে ১০ বছর আগে পুরো পরিবারটি ঢাকায় চলে যায় এবং রাজধানীর মগবাজার ও পল্লবী-কালশী এলাকায় বসবাস করে আসছিল।
দীর্ঘ সময় পর সেই ফেলে আসা চৌদ্দরশির মাটিতেই চিরদিনের জন্য শেষ ঠিকানা হলো মরিয়মের। যে গ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল তার বাল্যকালের স্মৃতি, সেই গ্রামের মাটিতেই গভীর রাতের নীরবতায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ১৯ বছর বয়সি এই তরুণী।
এফপি/অ