সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সদানন্দপুর মৌজায় জমির মালিকানা ও বাটোয়ারা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও ওই জমির অধিগ্রহণজনিত ক্ষতিপূরণের অর্থ একটি পক্ষের অনুকূলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছেন জমির দাবিদার ও ওয়ারিশরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আদালতে মালিকানা বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হলেও বিষয়টি পুরোপুরি নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এদিকে জমি ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে হয়রানিমূলক মামলা, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। এসব ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।
বাটোয়ারা মামলা বিচারাধীন থাকা সত্বেও ক্ষতিপূরণ নিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছে একটি কুচক্রী মহল।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদানন্দপুর মৌজা, জে.এল. নং-২০৫-এর বেশ কিছু জমি সরকারি ভূমি অধিগ্রহণের আওতায় এসেছে। এসব জমির মালিকানা ও অংশ নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
এ নিয়ে আদালতে বাটোয়ারা মামলা চলছে বলে জানান ভুক্তভোগী, যাহার নাম্বার নং-১৬৬/২০২৫, এই মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
এ দিকে জমির মালিকানা ও অংশ নিয়ে আদালতে যখন মামলা চলছে, তখন আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ কোনো একটি পক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে প্রকৃত স্বত্বাধিকার নির্ধারিত হওয়ার পর কীভাবে সেই অর্থ পুনরুদ্ধার করা হবে সে বিষয়ে ভুক্তভুগি পক্ষ সংঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ভুক্তভোগীদের আশঙ্কা, অর্থ বিতরণ হয়ে গেলে পরবর্তীতে তা ফেরত আনা জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়ায় পরিণত হতে পারে।
লিখিত আপত্তির পরও ভূমি অধিগ্রহণের পক্ষ থেকে কেন অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া চল মন তা নিয়েও প্রশ্ন ভুক্তভোগীর।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিচারাধীন মামলার বিষয়টি উল্লেখ করে তারা সংশ্লিষ্ট ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, সিরাজগঞ্জ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত আবেদন ও আপত্তি দাখিল করেছেন এবং মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণ স্থগিত রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানতে চান—কার আবেদনের ভিত্তিতে অর্থ প্রদান ও কোন কোন নথি যাচাই বাছাই করেছেন সে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তাছাড়া আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকার বিষয়টি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে কি না এ প্রশ্ন ছেড়ে দেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, জমির মালিকানা ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক মামলা দায়ের এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তাদের দাবি, তারা কোনো পক্ষের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চান না। আদালতের মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তিই তাদের মূল লক্ষ্য। কিন্তু প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে বারবার তাদের সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
অভিযোগকারী গোলাম মোস্তফা (ফনি মিয়া) বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই থাকতে চান। কিন্তু বিভিন্নভাবে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ক্ষতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
চলমান বিরোধ, মামলা ও বিভিন্ন ধরনের চাপের কারণে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমির মালিকানা, উত্তরাধিকার, বাটোয়ারা এবং অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সব নথি একসঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে CS, SA ও RS রেকর্ড, ওয়ারিশানা সংক্রান্ত কাগজপত্র, আদালতের চলমান মামলার নথি এবং অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ দাবির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে কারা দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের যাচাই-বাছাই করেছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এফপি/অ