চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ১০ বছরের এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বৃদ্ধ ফয়েজ উল্লাহ ওরফে ফজুল্লাহ ডাকাত (৬৫) পলাতক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড হাজীরখীল এলাকার পরিত্যক্ত একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার বিকেলে শিশুটির মা বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় মামলা দায়ের করলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত বৃদ্ধ ফয়েজ উল্লাহ ওরফে ফজুল্লাহ ডাকাত একই এলাকার মোনাফের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে ও সমাজে নানা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনার পর থেকে পলাতক আছেন।
প্রতিবন্ধী শিশুর চাচা আহমদ উল্লাহ বলেন, ‘এ ঘটনার সময় শিশুটির মা-বাবা সরল বাজার এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দ ত্রাণের টিন আনতে গিয়েছিলেন। এ সুযোগে ফয়েজ উল্লাহ বাড়ির পাশে খেলাধুলা করা শিশুটিকে ডেকে নিয়ে যান। পরে বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত একটি পুরোনো চায়ের দোকানে নিয়ে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পাশে থাকা কয়েকজন শিশু আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানালে স্থানীয়রা এগিয়ে আসার আগেই অভিযুক্ত বৃদ্ধ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অসহায় মানুষ। আমাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন। মামলা করলে নাকি অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বজনরা গুলি করে হত্যা করবেন আমাদের। আমরা আমাদের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
শিশুটির মা ইয়াছমিন আক্তার বলেন, ‘আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকে ডেকে নিয়ে ফজুল্লাহ ডাকাত জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। ঘটনার পরের দিন বাঁশখালী থানায় মামলা দায়ের করি। শুক্রবার সকালে মেয়েকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসি। আমি আমার প্রতিবন্ধী মেয়ের ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি। ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে দেওয়ার জন্য আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমরা এতে রাজি হয়নি।’
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, ‘এ ঘটনায় প্রতিবন্ধী শিশুটির মা ইয়াছমিন আক্তার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। ঘটনার পর শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে শিশুটির চিকিৎসা চলছে। ভুক্তভোগী শিশুটির চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ায় পরিবারের পাশে থাকবে পুলিশ।’
এফপি/অ