মাইকেল জ্যাকসনের জীবন নিয়ে নির্মিত বায়োপিক ‘মাইকেল’ নিয়ে শুরু থেকেই আলোচনা ছিল। সিনেমাটি ব্যবসায়িক সাফল্য পেলেও নব্বইয়ের দশকে পপ তারকাকে ঘিরে ওঠা বিতর্ক এবং শিশুযৌন নিপীড়নের অভিযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় প্রথম পর্বে না থাকায় প্রশ্ন তুলেছিলেন সমালোচকেরা।
এবার সেই বিতর্কিত অধ্যায়ই বায়োপিকের দ্বিতীয় পর্বে তুলে ধরার কথা জানিয়েছেন মাইকেলের চরিত্রে অভিনয় করা তাঁর ভাতিজা জাফর জ্যাকসন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দ্বিতীয় কিস্তির চিত্রনাট্য ও গল্প নিয়ে কথা বলেন জাফর। তাঁর ভাষ্য, চিত্রনাট্যের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও তিনি চান দ্বিতীয় সিনেমায় মাইকেলের নিজের দৃষ্টিভঙ্গি আরও স্পষ্টভাবে উঠে আসুক।
জাফর বলেন, ‘এটা অন্য কারো গল্প। বিষয়টিকে অন্য কেউ যেভাবে দেখেছে, তা মূলত বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য বা এজেন্ডা দ্বারা চালিত। আর পরিবার হিসেবে এতদিন ধরে আমাদের মূল সমস্যাটাই ছিল এটি—মাইকেলের নিজের বক্তব্য কখনো কেউ শোনেনি। আমি মনে করি এটি সবার সামনে আসা খুব, খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে তাঁর জীবনের শেষ সময়গুলোর বিষয়ে।’
প্রথম সিনেমায় মাইকেলের ক্যারিয়ারের শুরুর সময় থেকে ১৯৮৭ সালের ‘ব্যাড’ অ্যালবাম প্রকাশ পর্যন্ত সময় দেখানো হয়েছে। ফলে তাঁর জীবনের পরবর্তী সময়ের নানা বিতর্ক সেখানে আসেনি।
জাফর বলেন, ‘প্রথম চলচ্চিত্রে মাইকেলকে তাঁর একদম শুরু বা শিকড় থেকে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে সব সফলতা অর্জন এবং আইকন হয়ে ওঠার আগে মানুষ হিসেবে তিনি কেমন ছিলেন, সে সম্পর্কে দর্শকেরা স্পষ্ট একটি ধারণা পান। কারণ দিনশেষে নব্বইয়ের দশক থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি তেমনই একজন মানুষ ছিলেন।’
মাইকেলের ব্যক্তিত্বের দিকটিও দ্বিতীয় সিনেমায় আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরার আশা প্রকাশ করেন জাফর। তাঁর ভাষ্য, নানা পরিস্থিতির মধ্যেও মাইকেল মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সদয় আচরণ ধরে রেখেছিলেন।
জাফর বলেন, ‘মাইকেল তাঁর সততা ও মানুষের মধ্যে সবসময় ভালো দিকটা খুঁজে পাওয়ার মানসিকতা কখনোই হারাননি। তাঁকে যেসবের মধ্য দিয়েই যেতে হোক না কেন, তাঁর সঙ্গে যেমন আচরণই করা হোক বা তাঁকে নিয়ে যা-ই বলা হোক না কেন—তিনি মানুষকে ভালোবাসা ও সদয় আচরণ করা কখনো থামেননি। আমি আশা করি, দ্বিতীয় সিনেমায় দর্শকেরা এটি গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারবেন।’
উল্লেখ্য, ‘মাইকেল’ মুক্তির পর বিশ্বব্যাপী এক বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম সিনেমায় ১৯৮৭ সালের ‘ব্যাড’ অ্যালবাম পর্যন্ত সময় দেখানো হয়েছে। এর পর ১৯৯৩ সালে মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে প্রথমবার শিশুযৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে, যা প্রথম সিনেমার গল্পে ছিল না।
এফপি/ফ