কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলের দেয়ালে ‘জেসিডি’ লেখাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষার্থীকে জুনিয়রসহ কয়েকজন মিলে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হলের ৫০৮ নম্বর কক্ষে ও বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মামুনুর রশীদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন একই ব্যাচের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের আকাশ রাজবংশী ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সোহাগ চৌধুরী এবং আইন বিভাগের ফয়সাল। এছাড়া ইংরেজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শনব দেবনাথ ও মারুফ হোসাইনকেও মারধরে অংশ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন মামুন।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, নজরুল হলের ৪০৭ নম্বর কক্ষের বাইরের দেয়ালে ‘JCD, 407, কি? খাবি? খুব আতাও’সহ বিভিন্ন লেখা দেখা যায়। এসব লেখা নিয়ে হলের গ্রুপে আলোচনা শুরু হলে মামুনুর রশিদের সঙ্গে অভিযুক্তদের ছাত্রলীগের কর্মী গুপ্ত বলে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সোহাগ, ফয়সাল ও আকাশ তিনজন মামুনের কক্ষে গিয়ে দরজায় জোরে জোরে ধাক্কা দিতে থাকলে এক পর্যায়ে তিনি দরজা খুলেন। ছাত্রলীগের কর্মী কেন বলা হলো এসব জানতে আসলে মামুনের সাথে তাদের বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে মারামারি লেগে যায়। পরে জুনিয়র শিক্ষার্থী সনব ও মারুফও তাকে মারধর করেন বলে দাবি মামুনের।
মামুনুর রশিদ বলেন, “হল রাজনীতি করার জায়গা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জায়গা। দেয়ালে ছাত্রদল, শিবির বা অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের নাম লিখলে হলের সৌন্দর্য নষ্ট হবে। যার যার রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু তা দেয়ালে লেখার প্রয়োজন নেই। আমি জুলাইয়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে এমন পরিবেশের জন্য লড়াই করেছি, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, “দেয়ালে রাজনৈতিক লেখা নিয়ে প্রতিবাদ করায় কয়েকজন আমাকে গুপ্ত রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে। এরপর ফয়সাল আমাকে ম্যাসেন্জারে কল দিয়ে ফোনে হুমকি দেয়। পরে সোহাগ, ফয়সাল, আকাশসহ কয়েকজন আমার রুমে এসে কেন ছাত্রলীগ বলেছি এ নিয়ে আমাকে মারতে আসে। মারামারির একপর্যায়ে জুনিয়র মারুফ এবং সনব আমাকে মারতে আসে, মারুফ আমার নাকে ঘুষি মারে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোহাগ চৌধুরী বলেন, তারা মামুনুর রশিদের সঙ্গে কথা বলতে তার কক্ষে গেলে মামুন তাকে ধাক্কা দেন। পরে ফুলের টব ও দা নিয়ে তাদের মারতে আসলে আত্মরক্ষার্থে হাতাহাতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, তাদের সঙ্গে কোনো জুনিয়র শিক্ষার্থী ছিল না।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফার্মেসি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উচিং মার্মা বলেন, “আমি গিয়ে দেখি মারামারি শুরু হয়ে গেছে। লাইট বন্ধ থাকায় মুখগুলো ভালোভাবে চেনা যায়নি। মারামারি একপর্যায়ে আমাদের রুমের সামনে চলে আসে। দেখছিলাম মামুন ভাই মার খাচ্ছেন। আমি তাকে সেখান থেকে সরিয়ে আমাদের রুমে নিয়ে আসি।” এছাড়াও মামুনুর রশিদের হাতে কোন দা ছিলনা, একটি ফুলের টব ছিল বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী। পরে তিনি তার হাত থেকে সেটা নিয়ে নেন।
এ বিষয়ে কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক মো. হারুন বলেন, দুই পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। অভিযোগকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী ও তাদের সঙ্গে থাকা জুনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তরা বিষয়টি স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করতে রাজি থাকলেও মামুন সাংবাদিকদের সামনে বা ভিডিওতে বিষয়টি স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। তাই দুই পক্ষকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করা হবে।
এফপি/অ