যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ঐতিহাসিক 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬' উদযাপিত হয়েছে। জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল ৪ আগস্ট (মঙ্গলবার) সকাল ১০:০০ টায় জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের মাধ্যমে মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়ের বিশেষ বাণী প্রচার করা হয়।
আজ ৫ আগস্ট (বুধবার) কর্মসূচির অংশ হিসাবে দিনব্যাপী আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানমালায় দিনের শুরুতে সকাল ৯.০০টায় শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে ছাত্র জনতার জুলাই- আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষার্থে শিশু কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১.০০টায় প্রশাসন ভবন সংলগ্ন করিডোরে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া এর নেতৃত্বে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর অংশগ্রহণে বিজয় র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও সকাল ১১.১০ টায় সৈয়দ নজরুল ইসলাম কনফারেন্স হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে একটা আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ -৪ আসনের (সদর) মাননীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ'র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার শুরুতে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও বিশেষভাবে দোয়া করা হয় এবং জুলাই আন্দোলনের উপর নির্মিত সংক্ষিপ্ত ডকুমেন্টারী প্রদর্শন করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদান করেন ভেটেনারি অনুষদের ডিন ও ডিন পরিষদের আহবায়ক প্রফেসর ড. মো. বাহানুর রহমান, উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা কমিটির কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড. সামছুল আলম, রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন, ট্রেজারার প্রফেসর ড. হুমায়ুন কবির, জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের পক্ষে শহীদ সাইফুল ইসলামের পিতা মো. তৈয়ব আলী, শহীদ হাফিজুল ইসলামের স্ত্রী আকলিমা আক্তার আখি, শহীদ আমিনুল ইসলামের স্ত্রী তানজিনা আক্তার বক্তব্য প্রদান করেন।
এছাড়াও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষে বাকৃবি শাখার আহবায়ক মো. আতিকুর রহমান আতিক, সদস্য-সচিব মো. শফিকুল ইসলাম শফিক ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এস এম শোয়েব, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বাকৃবি শাখার সভাপতি জায়েদ হাসান ওয়ালিদ এবং সহ-সম্পাদক শতাব্দী কর বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ১৯৫২ সন থেকে ২০২৪ সন পর্যন্ত সকল ন্যায্য গণ-আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সবাইকে বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।
প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন যে, "আমি শুধু স্মরণ করতে চাই ৫২, ৬৯, ৭১, ৯০ এবং সর্বশেষ ২০২৪ এ সমস্ত রাজনৈতিক বাঁকগুলোতে এ দেশের যে সমস্ত মুক্তিকামী মানুষ জীবন দিয়েছে, আত্মাহুতি দিয়েছে, পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, যারা দুনিয়া থেকে চলে গিয়েছে, সবার জন্য আমার দোয়া এবং শুভকামনা এবং উনাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারের সবার প্রতি আমি অন্তরের অন্তস্থল থেকে সমবেদনা এবং সহানুভূতি জানাচ্ছি"।
তিনি আরও বলেন যে, ২০২৪ এর জুলাই-আগস্ট আমাদের মুক্তিকামী জনগণের আত্মত্যাগ, সাহস ও গণতান্ত্রিক চেতনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়; মনে করিয়ে দেয় গণমানুষের সাহসী অভ্যুত্থান ও গণজাগরণের কথা। তিনি জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে সবাইকে উন্নত বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহবান জানান।
উক্ত আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান'-এর বীর শহীদদের স্মরণে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক সংশ্লিষ্টদের মাঝে উক্ত পুরস্কার বিতরণ করেন।
উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক এই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
এফপি/অ