Dhaka, Saturday | 19 September 2026
         
English Edition
   
Epaper | Saturday | 19 September 2026 | English
শিরোনাম:

মাগুরা স্টেডিয়াম গেট: প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৫ পিএম আপডেট: ১৯.০৯.২০২৬ ৩:১৬ পিএম  (ভিজিটর : ৮২)

এক মোড়েই তিন সড়কের সংযোগ, নেই কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থা; ঝুঁকিতে খেলোয়াড়-শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ। মাগুরা শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলোর একটি স্টেডিয়াম গেট মোড়। একদিকে মাগুরা-ঝিনাইদহ মহাসড়ক, অন্যদিকে শ্রীপুরের আঞ্চলিক সড়ক, আর দক্ষিণ দিকে স্টেডিয়াম ও ঘনবসতিপূর্ণ স্টেডিয়াম পাড়ার প্রধান সড়ক। প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ মোড় এখন পরিণত হয়েছে দুর্ঘটনার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মোড়টি তে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এখনো কার্যকর ও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার করছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, খেলোয়াড় ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

ভাইনা মোড় থেকে স্টেডিয়াম গেটের দূরত্ব আনুমানিক ২০০ থেকে ৩০০ মিটার। এই অল্প পথের মধ্যেই রয়েছে মাগুরা সদর উপজেলা পরিষদ, ফায়ার সার্ভিস, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, আদর্শ মহাবিদ্যালয়, জেলা পরিষদ, এনএসআই ভবন, নির্বাচন কমিশন কার্যালয়, স্টেডিয়াম পাড়া জামে মসজিদ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জেলা টেনিস কমপ্লেক্স, জেলা স্টেডিয়াম এবং পশ্চিম দিকে রয়েছে এলজিইডি অফিস, সার্কিট হাউস ও জেলা ক্রীড়া অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

এর পাশাপাশি রয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। ফলে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, খেলোয়াড়, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে এ সড়কে।

স্টেডিয়াম গেটের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় বিকেলের পর। স্টেডিয়াম ফুড কোর্ট এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। পাশেই রয়েছে স্টেডিয়াম শিশু পার্ক। জেলা স্টেডিয়াম ও টেনিস কমপ্লেক্সে নিয়মিত খেলাধুলার কার্যক্রম থাকায় প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীরাও এ মোড় ব্যবহার করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্যস্ত সময়ে পথচারী ও যানবাহনের চাপ একসঙ্গে বেড়ে যাওয়ায় সড়ক পারাপার কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের সবচেয়ে বড় অভিযোগ, মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক ও স্টেডিয়াম পাড়ার সড়কের সংযোগস্থলটি বেশ ঢালু। ফলে এক সড়ক থেকে অন্য সড়কে প্রবেশ বা পারাপারের সময় বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন অনেক ক্ষেত্রে আগেভাগে দেখা যায় না।

এর সঙ্গে রয়েছে যানবাহনের গতি এবং মোড়ের ভৌগোলিক অবস্থান। অথচ এখানে নেই দৃশ্যমান কার্যকর ট্রাফিক সিগন্যাল, ডিভাইডার বা পথচারী পারাপারের সুস্পষ্ট ব্যবস্থা।

ফলে সামান্য অসতর্কতা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুর্ঘটনার আশঙ্কা এখন শুধু পথচারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। স্টেডিয়াম ও টেনিস কমপ্লেক্সে খেলতে আসা শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন অনেক অভিভাবক।

স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, স্টেডিয়ামে খেলাধুলার জন্য সন্তানকে পাঠানোর ক্ষেত্রে সড়ক পারাপারের বিষয়টি নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তা থাকে। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করেন না, তাদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।

স্টেডিয়াম এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম লাবু বলেন, “একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের কারণে আমাদের এলাকার স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমি ডেভেলপার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বাইরের মানুষ এই সড়কের ঝুঁকি দেখে আমাদের এলাকায় আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় দ্বিধায় পড়ছেন। এর প্রভাব সামাজিক ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও পড়ছে।”

টেনিস খেলোয়াড় সাইফ হাসান বলেন, “আমরা খেলোয়াড়রা প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করি। কিন্তু রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে কোনো ডিভাইডার বা কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় সব সময় আতঙ্কিত থাকতে হয়। আমরা যারা নিয়মিত চলাচল করি, তারা বিষয়টি জানি বলে সতর্ক থাকার চেষ্টা করি। কিন্তু নতুন কেউ এলে ঝুঁকি আরও বেশি।”

তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যে আমাদের চোখের সামনে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমি সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত এই মোড়ে স্থায়ী ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।”

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কায়সার হামিদ বলেন, “এই বিষয়টি ইতিমধ্যে আমাকে সচেতন মহল থেকে অবগত করা হয়েছে। আমার আগে বিষয়টি জানা ছিল না, যার কারণে দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে পারিনি। তবে অতি দ্রুতই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কার্যকর ভূমিকা পালন করব। অনেকেই স্পিড ব্রেকার দেওয়ার বিষয়ে বলেছেন। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে আইনগত বিষয়গুলো মাথায় রেখে আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তবে যেকোনো ভাবেই হোক, সমাধানের জন্যই কার্যকর পদক্ষেপ আপনারা দেখতে পারবেন।”

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল ফর বাংলাদেশ আব্দুল্লাহ আল হাদি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে বলেন, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) বনাম বাংলাদেশ ও অন্যান্য, রিট পিটিশন নং ১৫৪৬/২০১১, ০৭.১২.২০১৫ ইং তারিখের রায়ে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ মহাসড়কে স্পিড ব্রেকার যথাসম্ভব কমানোর এবং বিদ্যমান স্পিড ব্রেকারসমূহে যথাযথ সড়কচিহ্ন ও দৃশ্যমানতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তবে স্পিড ব্রেকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেননি।

একইভাবে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪১, ৪২ ও ৪৪ সড়ক নিরাপত্তা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান করে। অতএব, হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা এবং আইনের বিধান একত্রে পাঠ করা হলে বোঝা যায় যে, স্পিড ব্রেকার যেখানে একেবারেই প্রয়োজন, সেখানে পর্যাপ্ত সাইন-মার্কিং সহ যথাযথ নির্দেশনা মেনে নির্মাণ করা যেতে পারে।

আর স্টেডিয়ামের সামনের রোডের ক্রস রোড গুলোতে যাতায়াত বা পারাপার উভয় ক্ষেত্রেই মহাসড়কের যানবাহনের গতি কমানো ছাড়া অন্য কোনো প্র্যাকটিক্যাল বিকল্প এই মুহূর্তে নেই বলেই মনে হয়। তাই স্টেডিয়ামের সম্মুখস্থ চারমুখী সংযোগস্থলে মহাসড়কে চলাচলকারী দ্রুতগতির যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সংযোগ সড়কসমূহে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে পর্যাপ্ত দৃশ্যমানতা ও সড়কচিহ্ন নিশ্চিত করে স্পিড ব্রেকার স্থাপন করা যেতে পারে বলে আমি মনে করি।

স্থানীয়দের দাবি, কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার অপেক্ষায় না থেকে আগেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তাদের মতে, স্টেডিয়াম গেট মোড়ে ডিভাইডার, জেব্রা ক্রসিং, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হলে সড়ক পারাপারে নিরাপত্তা বাড়তে পারে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ট্রাফিক পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে স্টেডিয়াম গেট মোড়টি পরিদর্শন করে ঝুঁকির কারণ চিহ্নিত করবে এবং বাস্তবসম্মত স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এফপি/অ
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝