Cyber RedForce Bangladesh-এর CEO জাহাঙ্গীর আলম স্বপন জানান, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাজ করা ২২ সদস্যের একটি টিম রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ডিজিটাল নিরাপত্তা, অ্যাকাউন্ট সুরক্ষা ও অনলাইন উপস্থিতি ব্যবস্থাপনায় সেবা দিয়ে আসছে তারা।
সাইবার সিকিউরিটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার গল্প জানাতে গিয়ে স্বপন বলেন, ২০১৩ সালে তার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিজেবল হয়ে যাওয়ার পর সেটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা থেকেই এ বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয়। অনেকের সহায়তা নিয়েও সফল না হয়ে নিজেই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা ও অধ্যয়ন শুরু করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর নিজের অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন তিনি।
এরপর ২০১৬ সালে BD Anonymous Team-এর সঙ্গে কাজ শুরু করেন স্বপন। সেখানে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কার্যক্রম ও সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর নিজস্ব উদ্যোগে একটি আইটি ও সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন Cyber RedForce Bangladesh।
মনিটাইজেশন ও ভেরিফিকেশনে বেশি চাহিদাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান সেবার মধ্যে রয়েছে ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ডিজিটাল সমস্যা সমাধান ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সেবা। এর মধ্যে ফেসবুক আইডি ও পেজের মনিটাইজেশন এবং ভেরিফিকেশন নিয়ে গ্রাহকদের আগ্রহ বেশি বলে জানান স্বপন।
তার ভাষ্য, বর্তমানে অনেক ব্যবসা ফেসবুককেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। ফলে ব্যবসায়িক পেজে সমস্যা হলে অনেকে সমাধানের জন্য তাদের কাছে আসেন। একইভাবে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মনিটাইজেশন-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানেও চাহিদা রয়েছে।
এ ছাড়া কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ হ্যাকিং ও ব্ল্যাকমেইল-সংক্রান্ত সমস্যা নিয়েও তাদের কাছে আসে বলে জানান তিনি।
সচেতনতার অভাবে সাইবার ঝুঁকিসাইবার নিরাপত্তায় সাধারণ মানুষের অসচেতনতার কয়েকটি দিক তুলে ধরেন Cyber RedForce-এর CEO। তার পরামর্শ, অপরিচিত কোনো অ্যাপ ফোন বা ল্যাপটপে ডাউনলোড করা এবং অচেনা লিংকে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। একই সঙ্গে অনলাইন সম্পর্কে ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
সাইবার নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বানবাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম স্বপন বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও সাইবার নিরাপত্তায় এখনও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকিং খাত ও সরকারি সেবাগুলো বিভিন্ন সাইবার হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে।
তার মতে, দেশের দক্ষ সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের যথাযথভাবে কাজে লাগানোর পাশাপাশি সরকার, বেসরকারি খাত ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করতে চায় Cyber RedForce
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্বপন বলেন, দেশের সাইবার নিরাপত্তা খাতকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই Cyber RedForce Bangladesh-এর লক্ষ্য। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করতে চান তারা।
তিনি বলেন, দক্ষ জনবল তৈরি, সচেতনতা বৃদ্ধি, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাইবার নিরাপত্তায় আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে।
স্বপন বলেন, “আমরা কখনোই কোনো ধরনের সাইবার আক্রমণ বা অবৈধ কার্যক্রমকে সমর্থন করি না। আমাদের উদ্দেশ্য হলো প্রতিরক্ষামূলক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করা।”
এফপি/র