নওগাঁর মান্দা উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে প্রায় চার মাস ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট চলছে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অনেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে ওষুধ না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ঘুরে জানা গেছে, এসব কেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হলেও প্রয়োজনের তুলনায় ওষুধ সরবরাহ কম। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নিতে এসে অনেক রোগীকে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে স্থানীয় ওষুধের দোকান থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ের এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর গ্রামের দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের নির্ভরতা বেশি। বিশেষ করে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়—এমন রোগীদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকায় তাঁদের বাড়তি টাকা খরচ করে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
মান্দার একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা ৬০ বছরের বেশি বয়সী জমেলা খাতুন বলেন, ‘আমার বয়স হয়েছে, নানা রোগেও ভুগছি। আমি গরিব মানুষ, ওষুধ কেনার টাকা সব সময় থাকে না। দীর্ঘদিন ধরে হাঁপানিতে ভুগছি। এই হাসপাতাল থেকে ওষুধ নিয়ে খেলে কিছুটা আরাম পাই। অথচ গত তিন-চার মাস ধরে এখানে কোনো ওষুধ নেই।’
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খোন্দকার মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, চাহিদার তুলনায় ওষুধের সরবরাহ কম থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সংকট অনেকটাই কমে যাবে।
তিনি আরও বলেন, ‘গর্ভবতী মায়েদের সেবার জন্য আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ সরবরাহ দিচ্ছি। তাঁদের ওষুধের ঘাটতি অনেকটাই কম।’
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। দীর্ঘদিনের এ সংকট দ্রুত সমাধান করে ১৩টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
এফপি/র