কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের অমজাখালী এলাকার নুরুল আবছারের মালিকানাধীন একটি ফিশিংবোট বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে বঙ্গোপসাগরে ডুবে গেছে। এ ঘটনায় বোটে থাকা ১২ জন জেলের মধ্যে সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনো পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন— বড়ঘোপ ইউনিয়নের দক্ষিণ অমজাখালী এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে মো. করিম (২০), শামসুল আলমের ছেলে মো. নাছির (১৮), বড়ঘোপ মুরালিয়া গ্রামের আবদুল মাবুদের ছেলে আইয়ুব মনির (২২), আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের হায়দার বাপেরপাড়া এলাকার কামাল এবং পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের কাকপাড়া এলাকার নাছির উদ্দীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল সাগরের মধ্যে ফিশিংবোটটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে উল্টে যায়। এতে বোটে থাকা জেলেরা সাগরে ছিটকে পড়েন। পরে আশপাশে মাছ ধরায় নিয়োজিত অন্যান্য নৌকার জেলেরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করেন।
উপজেলা মৎস্যজীবী ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কালাম বলেন, “বৈরী আবহাওয়া ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে ফিশিংবোটটি উল্টে যাওয়ায় জেলেরা সাগরে পড়ে স্রোতে ভেসে যান। নিখোঁজদের উদ্ধারে স্থানীয় জেলেরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।”
উপজেলা মৎস্যজীবী দল ও ফিশিংবোট মালিক সমিতির নেতা জয়নাল আবেদীন বলেন, “সোমবার রাতে সাগরে নোঙর করে সবাই বিশ্রাম নেওয়ার সময় হঠাৎ প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও স্রোতের তোড়ে বোটটি উল্টে যায়। এখনো পাঁচজন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করে নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়া হোক।”
তিনি এ কাজে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সহযোগিতাও কামনা করেন।
এ ঘটনায় কুতুবদিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি (তদন্ত) মো. ফারুক।
এ বিষয়ে কোস্ট গার্ড ও উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, দুর্ঘটনার বিষয়ে এখনো তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পৌঁছেনি।
এফপি/র