মুন্সীগঞ্জে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া একটি মোটরসাইকেলসহ মোট পাঁচটি চোরাই ও চোরাই-সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। একই অভিযানে লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্দ্রা এলাকা থেকে ১ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা ও ২ কেজি গাঁজাও জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নিতাইগঞ্জ এলাকার মো. সুমন (২৫), মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ বেতকার হৃদয় দেওয়ান (৩০) এবং একই উপজেলার আমতলীর সজীব পাইক (২৪)।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গত ৯ জুলাই বিকেলে পদ্মা সেতু (উত্তর) থানার পশ্চিম কুমারভোগ চৌরাস্তার নুরানী জামে মসজিদের সামনে থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বাসিন্দা মো. সজিবের একটি কালো রঙের সুজুকি ২৫০ সিসি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর ডিবি পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে।
পরে গত ১২ জুলাই গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ এলাকা থেকে মো. সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে চুরি হওয়া সুজুকি মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীবাড়ীর বেতকা বাজার এলাকা থেকে হৃদয় দেওয়ানকে গ্রেফতার করে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন ডিসকভার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে হৃদয়ের তথ্য অনুযায়ী আমতলী এলাকা থেকে সজীব পাইককে গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছ থেকে একটি হাঙ্ক ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়, যা চোরাই সন্দেহে জব্দ করা হয়েছে।
অভিযান অব্যাহত রেখে লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্দ্রা এলাকার একটি দর্জি দোকানের পেছন থেকে ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর ঘষামাজা করা অবস্থায় রেজিস্ট্রেশনবিহীন দুটি পালসার ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলগুলোর প্রকৃত মালিক শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে মুন্সীগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে নম্বর প্লেট ও যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের মাধ্যমে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেছেন।
এদিকে একই অভিযানে গোয়ালীমান্দ্রা এলাকায় একটি দর্জি দোকানে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা ও ২ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় আলাল ওরফে আলাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় তিনি পালিয়ে যান।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং উদ্ধারকৃত মালামালের প্রকৃত মালিক শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোঃ মেনহাজুল আলম।
এফপি/ফ