টানা কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে চলা ভারী বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতায় সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসেও চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকেই আকাশ ভেঙে নামা অঝোর ধারার বৃষ্টিতে স্থবির হয়ে পড়েছে এই মহানগরী। সকালের ব্যস্ত সময়ে হঠাৎ এই ভারী বর্ষণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন অফিসগামী সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং দিনমজুর ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শত চেষ্টা করেও জলজট ও যানজটের কবল থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না নগরবাসী।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই বৃষ্টি সহসা শেষ হচ্ছে না। আজও দমকা হাওয়াসহ হালকা, মাঝারী ও কোথাও কোথাও ভারি বৃষ্টি হতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে।
উল্লিখিত অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত (পুনঃ ১ নম্বর সতর্ক সংকেত) দেখাতে বলা হয়েছে এবং নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এর আগে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় মোট ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে সকাল থেকেই রাস্তায় গণপরিবহন সংকট দেখা যায়। প্রধান সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এবং যানজটের কারণে যানবাহন চলাচলের গতি মন্থর হয়ে পড়ে, ফলে রাস্তায় বাসের সংখ্যা ছিল একেবারেই সীমিত। দীর্ঘ সময় মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থেকেও অফিস ও স্কুল-কলেজগামী মানুষ কোনো যানবাহন পাননি। এই সুযোগে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাচালকরা কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। গণপরিবহন না পেয়ে নিরুপায় হয়ে অনেককেই বৃষ্টিতে ভিজে, নোংরা পানি মাড়িয়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে দেখা গেছে।
এফপি/অ