“বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে।
সোমবার সকাল ১০টায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় বাটাজোর ইউনিয়নের হরহর গ্রামে কাটাগাছতলা নামক স্থানে পুনঃখননকৃত বাটাজোর সরিকল খালের পাশে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় গৌরনদীতে ২৫শ”টি গাছের চারা রোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না, প্রতিটি চারার যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। গাছ বড় হলে মানুষ বিশুদ্ধ অক্সিজেন পাবে, ছায়া পাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি দেশকে সবুজ ও বাসযোগ্য রাখতে সবাইকে বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ এবং তার পরিচর্যার আহ্বান জানান।
পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে-সেখানে প্লাস্টিক ও ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না। ব্যবহৃত প্লাস্টিক বা বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের মালিক জনগণ, তাই দেশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও জনগণের।এ সময় একটি খালের মধ্যে পড়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এ ধরনের বর্জ্যের কারণে খাল-বিল ভরাট হয়ে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বাজার, ঘাট ও জনসমাগমস্থলে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। সবাই সচেতন হলে জলাবদ্ধতা ও বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতিও অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুজ্জামান। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গৌরনদীবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি নিম গাছের চারা উপহার দেন।
গাছের চারা রোপণ শেষে দোয়া পরিচালনা করেন গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও মুক্তিযোদ্ধা সরোয়ার আলম বিপ্লব।
পরে বাটাজোর অশ্বিনীকুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ডের ৬১৩ জন সুবিধাভোগীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার গঠন করতে পারলে সারাদেশে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এ জন্য জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৭ হাজার পরিবারের নারী সদস্যদের এ সুবিধার আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণ পাশে থাকলে দেশের স্বার্থে কাজ করতে কোনো বাধা বিএনপিকে থামাতে পারবে না।
নারী শিক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রথম শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার প্রথম শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে।
গৌরনদীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল নগরের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি সংলগ্ন এলাকা এবং সাগরদী খালের পাড়ে পৃথক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এরপর বরিশাল সার্কিট হাউসে স্বল্প বিরতি শেষে বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন।
নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে বিকেলে সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে বরিশাল ত্যাগ করেন।
এফপি/অ