কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১০ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে।
গতকাল রোববার (১২ জুলাই) রাত ১০টার দিকে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করেন।
মামলায় এক কিশোরকে (১৬) আসামি করা হয়েছে। সে চলতি বছর একটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষা দিয়েছে। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক।
পুলিশ, এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। গতকাল সকালে সে বাড়ির পাশের একটি মক্তবে পড়তে গিয়েছিল। সেখানে অভিযুক্ত কিশোরের ছোট বোনও পড়ে। গতকাল সকালে ভারী বৃষ্টির কারণে পড়া শেষ হলেও ওই দুজন মসজিদেই অবস্থান করছিল। একপর্যায়ে অভিযুক্ত কিশোর ছাতা নিয়ে তাঁর ছোট বোনকে বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর সে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে মক্তবের পাশের একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় এক পথচারী চিৎকার শুনে ঘরের মধ্যে গেলে অভিযুক্ত কিশোর পালিয়ে যায়। তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেন।
শিশুটি তার নানা বাড়ি থেকে পড়াশোনা করে। স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর প্রথমে বিষয়টি বিয়ের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে শিশুটির বাবা জানতে পেরে বিকেলে থানায় যান এবং লিখিত অভিযোগ করেন। গতকাল রাত ১০টার দিকে মামলাটি নথিভুক্ত করে। পুলিশ শিশুটিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠায়।
শিশুটির মা বলেন, ‘আমার মেয়েকে মক্তব থেকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করেছে। বিচারের জন্য থানায় মামলা করেছি।’
এদিকে ঘটনার পর থেকে ওই কিশোর পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর মা অসুস্থ থাকায় কথা বলতে রাজি হননি।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন বলেন, পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। খুব দ্রুতই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে পুলিশ।
এফপি/ফ