কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছরের শিশু আয়েশা সিদ্দিকা হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। আলোচিত এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতিবেশী এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাদের একজন আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। নিষ্পাপ শিশুর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় এখনো শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নয়ন কুমার গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল সকালে উপজেলার মাচাবান্ধা সাহাপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় আলমগীর হোসেনের কন্যা আয়েশা। দিনভর খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না মেলায় পরিবারে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাত ১০টার দিকে পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুটির নিথর দেহ। ছোট্ট শিশুর এমন পরিণতিতে পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
ঘটনার দীর্ঘ ১৫ দিন পর গত শুক্রবার (১ মে) ভোরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত তথ্যের ভিত্তিতে একই গ্রামের প্রতিবেশী কহিনুর বেগম কনিকা (২৬) ও তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম আপেল (৩০)- কে তাদের বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে ঘটনার হৃদয়বিদারক বিবরণ।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন আয়েশা পাশের বাড়িতে গিয়ে কহিনুরের আড়াই বছর বয়সি সন্তান আব্দুল্লাহ কাফির সঙ্গে খেলছিল। খেলতে গিয়ে আব্দুল্লাহ কাফির হাতে থাকা একটি কলমের আঘাতে আয়েশার চোখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। আকস্মিক এ ঘটনায় ভীত হয়ে কহিনুর বিষয়টি গোপন করতে আহত শিশুটিকে ঘরে নিয়ে যায় এবং মুখ চেপে ধরে। এতে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ একটি ড্রামে লুকিয়ে রেখে রাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় পাশের পতিত জমিতে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে ঘটনাটি অন্যভাবে উপস্থাপন করা যায়।
চিলমারী মডেল থানার ওসি নয়ন কুমার জানান, ‘গ্রেফতার দম্পতির একজন মোছা. কহিনুর বেগম কনিকা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম জানান, ‘এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
এদিকে, নিষ্পাপ শিশুটির নির্মম মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের আবহ এখনো কাটেনি। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।
এফপি/অ