ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুশফিকুর রহমান। তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) কসবা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ৬০টি পরিবারের মাঝে এ অনুদান বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, পর্যায়ক্রমে কসবা পৌরসভা ও উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মোট ৫০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মুহাম্মদ ইলিয়াছ, সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. নাজমুল হুদা খন্দকার, জেলা বিএনপি সদস্য মো. হানিফ খন্দকার, কসবা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল ইসলাম ভূঁইয়া, সাবেক সভাপতি মো. আলী আশরাফ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির, কসবা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রউফ রতন, কসবা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. জিয়াউল হুদা শিপন, কসবা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. বশির চৌধুরী উপজেলা বিএনপির মহিলা নেত্রী লুৎফুর নাহার রিনা যুবদল নেতা সাহিদুল খা ছাত্র নেতা রাজু আহমেদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য,গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তিনলাখপীর এলাকায় একটি মোবাইল অপারেটর এয়ারটেলের মাদার টাওয়ার দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে পড়ে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩০টি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যায় এবং অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায় এছাড়াও শতাধিক ঘরবাড়ি ও অসংখ্য গাছ-পালা ভেঙে পরেছে।
ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকে কসবা পৌরসভা ও উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি, এতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সাধারণ মানুষের জনজীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কৃষি অফিসের তথ্যমতে, ঝড়ের তাণ্ডবে ১ হাজার ৬৭৪ হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে—বাতাসে শুয়ে পড়া ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া ১৮ হেক্টর সবজি, ৭ হেক্টর তিল, ৮ হেক্টর ফল এবং ২ হেক্টর আখেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন হাজারো কৃষক।
এফপি/অ