Dhaka, Friday | 1 May 2026
         
English Edition
   
Epaper | Friday | 1 May 2026 | English
ড. ইউনূসের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, মার্কিনিদের মন জয়ে শ্রমিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করে প্রজ্ঞাপন
৪৮ ঘণ্টার ভেতর পুরো দেশে তাণ্ডব চালাবে কালবৈশাখী
বেড়েছে নারীর প্রতি সহিংসতা, এপ্রিলেই মব হামলায় নিহত ২১
বিশ্বকাপ না খেলা ‘বড় ভুল’ ছিল বাংলাদেশের
শিরোনাম:

ড. ইউনূসের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, মার্কিনিদের মন জয়ে শ্রমিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করে প্রজ্ঞাপন

প্রকাশ: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৫:৩০ পিএম  (ভিজিটর : ২৪)

নির্বাচন শেষ, ফলাফলও হাতে। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি, ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেবে নতুন সরকার। ১৬ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের এমন সন্ধিক্ষণেও তড়িঘড়ি করে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার।

১৮ মাসের দায়িত্ব শেষে চলে যাওয়ার আগমুহূর্তে শ্রম মন্ত্রণালয়ের জারি করা সেই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জ্বালানি ও খনিজসম্পদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদেশি বিনিয়োগকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদ্যমান লাভের ৫ শতাংশ শ্রমিককে দেয়ার যে বিধান, তা বাদ দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে ৫ শতাংশের পরিবর্তে মাত্র দেড় শতাংশ মুনাফা দেবে শ্রমিকদের।

বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, গেল বছরের ১৮ নভেম্বর একটি চিঠি ইস্যু করে শ্রম মন্ত্রণালয়। যেখানে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ধারা সংশোধন করা দরকার। যে চিঠি পাঠিয়েছেন নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে ডাকা হয় জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদের বৈঠক। যেখানে মুনাফা কমানোর তীব্র আপত্তি জানায় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মীরা। অভিযোগ তোলা হয়, শেভরনের মতো কিছু মার্কিন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে বাড়তি সুবিধা দিতেই এই উদ্যোগ।

ক্ষমতা ছাড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে অন্তর্বর্তী সরকারের শ্রম অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে এমন প্রজ্ঞাপন জারিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলছেন শেভরনের কর্মীরা। তারা জানান, তৎকালীন উপদেষ্টা ছিলেন এম. সাখাওয়াত হোসেন। তার সঙ্গে আমরা দেখা করি। আমরা ব্যাপারটি তার কাছে খুলে বলি, যে এটা আমাদের ন্যায্য পাওনা। তিনি অকপটে বললেন, হ্যাঁ, এটা আপনাদের ন্যায্য অধিকার কিন্তু আমার ওপর প্রেশার আছে। আমি এটির বিপরীতে কিছু করতে পারব না। নির্বাচনে আগমুহূর্তে আমরা তাদের বারাবার বলার চেষ্টা করছি, এই মুহূর্তে আপনাদের এ রকম একটি আইন করা উচিত হবে না।

কার চাপে শেষ সময়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার—জবাব চাইলে কথা বলতে রাজি হননি সাবেক শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন। তবে বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তার সোজাসাপ্টা জবাব—জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের চাপ ও মার্কিন বিনিয়োগ বন্ধের হুমকিতেই এমন সিদ্ধান্ত।

মুঠোফোনে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, শ্রমিকের মুনাফা ৫ শতাংশের কারণে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্রে অংশ নেয় না মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো।

পুরো ঘটনার সাক্ষী শ্রমিক নেতা বাবুল আক্তার। ইউনূস সরকারের এমন সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, সাখাওয়াত সাহেবের জন্য এটি একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। এই যে দেড় শতাংশ কর এত বিরোধিতা করার পরও, এতে শ্রমিক আইন পুরোপুরি লঙ্ঘন হয়েছে। রাজনৈতিক সরকার যাতে সিদ্ধান্ত না নিতে পারে, সে সুযোগ যাতে না পায়, তার জন্য তড়িঘড়ি তরে এ কাজটি করা হয়েছে।

এক মাসের বেশি সময় অপেক্ষা করেও বিষয়টিতে যুক্তরাষ্ট্র ঢাকা দূতাবাসের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও ২০২৩ সালের অ্যান্থনি ব্লিংকেন হুমকি দিয়েছিলেন, শ্রম অধিকার রক্ষা না হলে দেয়া হবে নিষেধাজ্ঞা। ঘটনার বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি শেভরনও।

এফপি/এমআই
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝