জাতীয় সংসদে চলমান আলোচনায় এবার নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করার পরই তাকে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, যা সংসদে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে ডা. তাহের এ কথা বলেন।
জামায়াতের এই নেতা বলেছেন, আজকে রাজাকার-আলবদরের কথা বলছেন। এটা এখন ডেড ইস্যু। কেন বলছি—আজকে আমরা এখানে বসে আছি। আমরা তো কেউ রাজাকার ছিলাম না, আলবদর ছিলাম না।
ডা. তাহের আর বলেন, উই আর লিডারশিপ ইন দ্য জামায়াতে ইসলামী। যদি আপনি সেভাবে মুক্তিযোদ্ধার কথা বলেন—আমিও একজন শিশু মুক্তিযোদ্ধা।
মূলত তার এই বক্তব্যের পর সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমি আজকে নতুন করে আবিষ্কার করলাম আমাদের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের শিশু মুক্তিযোদ্ধা—তাকে আমি স্বাগতম জানাই। আমাদের সম্মানিত ব্যক্তি, আমি সবাইকে সম্মান প্রদর্শন করতে কসুর করি না—মাননীয় স্পিকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা নিজেকে শহীদ পরিবারের সন্তান দাবি করেন সেটা আমার ভালো লাগল। কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ওইপারে (বিরোধীদলীয় আসনে) আছেন। আজকে ইতিহাসের একটা ফয়সালা করে দেওয়ার মতো একটা বিষয় আমি মনে রেখেছি।
তিনি আরও বলেন, যদি সময় পাই—এটা নিয়ে আর কখনো বিতর্ক হওয়া ঠিক হবে না। স্পিকার— মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর যেহেতু ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখছি—রাষ্ট্রপতিকে ইনস্টিটিউশনের প্রধান হিসেবে ধন্যবাদ এ জন্যই জানাই যে চব্বিশের আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত এ রাষ্ট্রে সরকারবিহীন অবস্থায় যে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন সে জন্য।
সালাহউদ্দিন বলেন, সেই ৫ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তৎকালীন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন; পার্লামেন্ট ডিজলভ হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ নাই এবং ১০৬-এ কনস্টিটিউশনের অ্যাডভাইজারি রোলের বিপরীতে রাষ্ট্রপতি অ্যাডভাইস চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের কাছে। যার অনুবলে অন্তর্বর্তী সরকার সৃজন হয়েছে কিন্তু কোনো টাইম লিমিট দেওয়া ছিল না; তারও একটা কারণ ছিল।
তিনি আরও যোগ করেন, চিফ জাস্টিস এবং আপিলেট ডিভিশন পদত্যাগ করেছে। সেই রকম একটা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি এ রাষ্ট্রের অভিভাবকের ভূমিকা হিসেবে তাকে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। সেজন্য তাকে আমি ধন্যবাদ জানাই।
সালাহউদ্দিন বলেন, আমাদের এখানে একজন সংসদ সদস্য আছেন, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদসহ আরও অনেকেই। চিফ অ্যাডভাইজর ড. ইউনূস সাহেবের নেতৃত্বে শপথ গ্রহণ করেছিলেন রাষ্ট্রপতিকে তখন তারা স্বীকৃতি দিয়েছিলেন—মাননীয় স্পিকার।
এফপি/এমআই