Dhaka, Wednesday | 29 April 2026
         
English Edition
   
Epaper | Wednesday | 29 April 2026 | English
আরও ৫ দিন থাকতে পারে বৃষ্টি
বৃষ্টির দিনেই কেন খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে করে?
রাজধানীতে সকাল থেকে বৃষ্টি
রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু, পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে বাংলাদেশ
শিরোনাম:

বন্যায় ডুবে গেছে আজমিরীগঞ্জের কৃষকের স্বপ্ন

প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৬ পিএম আপডেট: ২৯.০৪.২০২৬ ৭:১৮ পিএম  (ভিজিটর : ১১৫)

​হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে চলতি বোরো মৌসুমে সোনালী ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন হাওড়পাড়ের হাজারো কৃষক। একদিকে ধান কাটা শ্রমিকের তীব্র সংকট, অন্যদিকে বিরূপ আবহাওয়া, বজ্রবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টি কৃষকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। 

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে উপজেলার অন্তত ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির পাকা ধান এখন পানির নিচে। সারা বছরের শ্রম আর ঘামে উৎপাদিত ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের দিন কাটছে চরম উৎকণ্ঠা ও হতাশায়।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন হাওড়ে মোট ১৪ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার বদলপুর, সদর ইউনিয়ন, জলসুখা, শিবপাশা এবং কাকাইলছেও ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওড়ের নিম্নাঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ২০৭হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে।

​সরজমিনে বদলপুর ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওড় ঘুরে দেখা গেছে, বিষাদময় চিত্র। হাওড়ের নিম্নাঞ্চল এখন পানিতে থৈ থৈ করছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অনেক কৃষককে দেখা গেছে কোমর সমান পানিতে নেমে ডুবন্ত ধান কাটতে। কেউ কেউ নৌকাযোগে সেই আধা-পাকা ধান কেটে শুকনো জায়গায় এনে জড়ো করছেন।

বদলপুর ইউনিয়নের কৃষক শিবলাল দাস আক্ষেপ করে বলেন, “১৩ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে আবাদ করেছিলাম। খরচ হয়েছে দেড় লাখ টাকার বেশি। এখন এক মুঠো ধানও কাটতে পারিনি। মহাজনের ঋণের টাকা কীভাবে দেব আর সন্তানদের কী খাওয়াব, তা ভেবে পাচ্ছি না।”

​একই এলাকার হরিপদ দাস জানান, তিনি ১৭ বিঘা জমিতে আবাদ করলেও মাত্র ২ বিঘার ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন। বাকি সব এখন পানির নিচে। ১৩ বিঘা আবাদ করা কৃষক গিরিন্দ্র চন্দ্র দাসেরও একই দশা। তিনি জানান  মাত্র ১ বিঘা কাটতে পেরেছেন তিনি।

​স্থানীয় ইউপি সদস্য শ্যামল কুমার দাস বলেন, বদলপুর ইউনিয়নের নোয়াবন্দ, হাফাইংগা বন্দ, পুম বন্দ, মাইজবন্দ, ট্যারা বন্দসহ বিভিন্ন এলাকার অন্তত এক হাজার হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে আছে। উঁচু জমিতে যে ধান আছে, সেখানেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে হাওড়ে ধান কাটার মেশিন (হারভেস্টার) নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, কৃষি বিভাগ মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। শ্রমিক সংকটের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলায় চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাকি ধান দ্রুত কাটা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

​এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রেজাউল করিমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার দাপ্তরিক মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এফপি/জেএস
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝