চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আগামী ৯ মে তিনি লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। বঙ্গভবনের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে পর এটি হবে তার দেশের বাইরে প্রথম কোনো সফর। চিকিৎসা শেষে আগামী ১৭ মে দেশে ফেরার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির।
৭৬ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে এই সফরে থাকছেন তার সহধর্মিণী ডা. রেবেকা সুলতানা এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসকসহ ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। লন্ডনের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতির কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছিল।
এর আগে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি জানিয়েছিলেন, ড. ইউনূসের শাসনামলে তাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি।
গত ফেব্রুয়ারিতে গণমাধ্যমে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে আমার একটি বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। সার্জারির এক বছর পর সেখানকার হাসপাতালে আমার ফলোআপের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। সময়মতো আমি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিই। প্রত্যুত্তরে আমাকে সরাসরি নিষেধ করে দেওয়া হয়। বলা হয়, যদি প্রয়োজন হয়, বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনার ব্যবস্থা করবেন, তবু বিদেশে যাওয়া যাবে না।’
মো. সাহাবুদ্দিন আরো বলেন, ‘একইভাবে লন্ডনে কেমব্রিজ পার্কওয়ে হসপিটালেও আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে সেখানেও যেতে দেয়নি।’
ইউনূস সরকার কার্যত তাকে বঙ্গভবনে গৃহবন্দি করে রেখেছিল বলেও জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, ‘আমাকে যেন এই প্রাসাদে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজে রাষ্ট্রপতি জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অংশগ্রহণ করেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে এই রেওয়াজ চলে আসছে। কিন্তু ড. ইউনূসের সরকার সেই রেওয়াজে প্রতিবন্ধকতা দিয়েছে। আমাকে দুটি ঈদের নামাজে অংশ নিতে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে যেতে দেয়নি।’
এফপি/এমআই