Dhaka, Tuesday | 29 September 2026
         
English Edition
   
Epaper | Tuesday | 29 September 2026 | English
শিরোনাম:

কুড়িগ্রাম-৪ আসনে স্বামী-স্ত্রীর মুখোমুখি লড়াই

প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৮ পিএম  (ভিজিটর : ৪১)

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) সংসদীয় আসনে তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী ও আলোচিত এক রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একই আসনে স্বামী ও স্ত্রী ভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ায় স্থানীয় রাজনীতি ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা চলছে।

এই আসনে জাতীয় পার্টি (লাঙল) থেকে প্রার্থী হয়েছেন কে এম ফজলুল মন্ডল। অপরদিকে তার সহধর্মিণী মোছা. শেফালী বেগম বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)-এর মনোনয়নে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। যদিও কে এম ফজলুল মন্ডল দাবি করছেন তাদের দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ হয়েছে, তবে শেফালী বেগমের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, আইনি দৃষ্টিতে ফজলুল মন্ডল এখনো তার স্বামী। দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য থাকলেও তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনিভাবে বহাল রয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রীর ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এ অঞ্চলের রাজনীতিতে বিরল। এতে একদিকে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই বিষয়টিকে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখলেও রাজিবপুর উপজেলার আমিনুল ইসলাম, এরশাদুল ইসলাম, চিলমারী উপজেলার হুমায়ুন কবির, মোসলেম উদ্দিন সহ একাধিক ভোটার জানিয়েছেন, তারা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, বরং প্রার্থীদের যোগ্যতা, রাজনৈতিক অবস্থান ও এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে ভোট দেবেন।

গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে উভয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এখানেই উঠেছে নতুন প্রশ্ন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী কে এম ফজলুল মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, শেফালী বেগম আগে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন এবং চাকরি ছাড়ার তিন বছর পূর্ণ না হতেই কীভাবে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলো, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

এ অভিযোগের জবাবে শেফালী বেগম বলেন,‘তিনি স্বেচ্ছায় চার থেকে পাঁচ বছর আগে শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নিয়েছেন। তার স্বামীর অভিযোগ ভিত্তিহীন।’ পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ‘চলতি মাসের ৩ তারিখে ফজলুল মন্ডল তার বাড়িতে এসে সময় কাটিয়েছেন এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথাও বলেছেন।’

চর রাজিবপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ‘ফজলুল মন্ডল মাঝে মাঝে শ্বশুর বাড়িতে আসেন, তবে ৩ তারিখে আসার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত নন।’

এ দিকে এ আসনের এই নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্বামী–স্ত্রীর সম্পর্ক, আইনি অবস্থান ও মনোনয়ন বৈধতা ঘিরে নানা প্রশ্নে একটি ব্যতিক্রমী ও আলোচিত নির্বাচনী অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভোটের রায়ই নির্ধারণ করবে এই আলোচিত লড়াইয়ের পরিণতি।

কুড়িগ্রামের তিন উপজেলা (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৩ জন। এরমধ্যে চিলমারী উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ৬০০, রৌমারী উপজেলায় ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭৮৭ ও রাজিবপুর উপজেলায় ৬৮ হাজার ৬৭৬ জন।

এফপি/জেএস
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝