Dhaka, Friday | 6 November 2026
         
English Edition
   
Epaper | Friday | 6 November 2026 | English
শিরোনাম:

২০ বছর ধরে বন্ধ সরকারি পশু হাসপাতাল, ভোগান্তিতে খামারিরা

প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১২ পিএম  (ভিজিটর : ৮)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের পরানখালী বাজারে অবস্থিত সরকারি পশু হাসপাতালের উপকেন্দ্রটি প্রায় ২০ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সেখানে নেই কোনো চিকিৎসক, কর্মচারী, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কিংবা চিকিৎসা সরঞ্জাম। ফলে এলাকার গবাদিপশু ও অন্যান্য প্রাণীর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও খামারিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় এ উপকেন্দ্রে পশু চিকিৎসাবিষয়ক পরামর্শ, কৃত্রিম প্রজনন ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হতো। তবে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এখন আর কোনো সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।

পরানখালী বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী সারাবুল বাশার বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে এখানে হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে এলাকার শত শত মানুষ পশু চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এলাকায় সরকারি প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও কোনো সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় কেন্দ্রটি চালু থাকায় স্থানীয় পশুপালকেরা নিয়মিত সেবা পেতেন। তিনি হাসপাতালটি দ্রুত পুনরায় চালুর দাবি জানান।

স্থানীয়দের মতে, সম্প্রতি এলাকায় পোলট্রি ও ডেইরি খামারের সংখ্যা বেড়েছে। পাশাপাশি অনেকেই বাড়িতে হাঁস, মুরগি, কবুতর, খরগোশ, বিড়াল ও কুকুরসহ বিভিন্ন প্রাণী পালন করেন। কেউ কেউ বাড়ির ছাদেও গড়ে তুলেছেন ছোট খামার। এসব প্রাণীর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের জন্য তাঁদের প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হয়। স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা না থাকায় অনেক সময় অসুস্থ প্রাণীর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।

এদিকে দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় উপকেন্দ্রের ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। চারপাশে নেই কোনো সীমানাপ্রাচীর। নেই প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের সরবরাহ। ফলে ভবনটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

স্থানীয় গবাদিপশুপালক আলতাফ শেখ বলেন, “এলাকার কোনো পশু অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য ভেড়ামারা উপজেলায় নিয়ে যেতে হয়। এতে একদিকে ভোগান্তি বাড়ে, অন্যদিকে অতিরিক্ত খরচ হয়।”

গবাদিপশুর খামারি ঝন্টু শেখ বলেন, “গরু অসুস্থ হলে স্থানীয় পশুচিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা করাতে হয়। এতে খরচ অনেক বেড়ে যায়। হাসপাতালটি দ্রুত চালু করা হলে এলাকার অনেক মানুষ উপকৃত হবেন।”

স্থানীয় বাসিন্দা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে খুব খারাপ লাগে। এখানে পশু চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলে আমাদের অনেক উপকার হতো। তাই সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। হাসপাতালটি চালু হলে এলাকার পশুপালকেরা সহজেই চিকিৎসাসেবা পাবেন।”

এ বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. তারেক হাসান বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে ৪৯৫ জন কৃত্রিম প্রজননকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। আমাদের লোকবল দেওয়া হলে সরকার হয়তো ওই কেন্দ্রেও জনবল নিয়োগ দেবে। এ ছাড়া ভবনের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি ইতিমধ্যে অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আল মামুন হোসেন মন্ডল বলেন, “আমি ইতিমধ্যে জুনিয়াদহ প্রজনন কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটির অবস্থা খুবই খারাপ। সেখানে একজন স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন, তবে কোনো সরকারি কর্মী নেই। পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি, সেখানে বসে কাজ করার মতো পরিবেশও নেই। এ জন্য কিছু অর্থ ব্যয় করে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর চেষ্টা করছি। ইনশা আল্লাহ, খুব দ্রুত চালু করতে পারব।”

এ অবস্থায় জনস্বার্থে সরকারি এ পশু চিকিৎসা ও প্রজননকেন্দ্রটি সংস্কার করে দ্রুত পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও খামারিরা। তাঁদের মতে, কেন্দ্রটি চালু হলে এলাকার গবাদিপশু ও অন্যান্য প্রাণীর চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য হবে। পাশাপাশি খামারিদের চিকিৎসা ব্যয় ও ভোগান্তি কমবে।

এফপি/মিব
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝