Dhaka, Thursday | 5 November 2026
         
English Edition
   
Epaper | Thursday | 5 November 2026 | English
শিরোনাম:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৬৮ কর্মচারী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম  (ভিজিটর : ৫৫)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২৬৮ জন ডে-লেবার ও থোক বরাদ্দের কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা ও অর্থ বরাদ্দসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউজিসির অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় বিশেষ বিবেচনায় বিভিন্ন দপ্তরে দৈনিক মজুরিভিত্তিক ও থোক বরাদ্দের আওতায় কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একাংশ পোষ্য কোটায় নিয়োগ পেয়েছিলেন। এসব কর্মচারীর অনেকে ১০ থেকে ২০ বছর ধরে স্থায়ী নিয়োগের আশায় বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে ইউজিসির বরাদ্দ না থাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তাঁদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৬তম সিন্ডিকেট সভায় ডে-লেবার ও থোক বরাদ্দের কর্মচারীদের ছাঁটাইয়ের বিষয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী কর্মচারী ইমতিয়াজ আহমেদ অন্তু বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রম দিয়ে আসছি। মানবিক দিক বিবেচনা করেও আমাদের বিষয়টি দেখা যেত। কিন্তু প্রশাসন কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে সরাসরি ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা হাইকোর্টে রিট করেছি। রিট চলমান থাকা অবস্থায় কীভাবে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা বুঝতে পারছি না। আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব। চূড়ান্ত রায় আমাদের পক্ষে এলে তখন আমাদের ছাঁটাই করার সুযোগ থাকবে না।'

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, 'ইউজিসির চিঠির ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো তহবিল নেই। সরকার কিংবা ইউজিসি থেকেও এসব কর্মচারীর বেতন-ভাতা বহনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আপাতত তাঁদের বেতন-ভাতা বহন করা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এটি আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত।'

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল সংকট থাকলে প্রয়োজনীয় পদের চাহিদাপত্র ইউজিসিতে পাঠাতে হবে। কমিশন যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় জনবল অনুমোদন দেবে। বিশ্ববিদ্যালয় এখন সেই প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমানে কর্মরত ব্যক্তিদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার চেষ্টা করা হবে।

কর্মচারীদের বকেয়া বেতনের বিষয়ে উপাচার্য জানান, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত তিন মাসের বকেয়া বেতন কষ্ট করে হলেও পরিশোধ করা হবে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে দৈনিক মজুরিভিত্তিক তিন শতাধিক ডে-লেবার দীর্ঘদিন ধরে হাজিরার ভিত্তিতে দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা মজুরিতে কাজ করে আসছেন। তাঁদের মধ্যে নিরাপত্তাপ্রহরী, মালি, অফিস সহকারী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সুইপার, পিয়ন এবং অডিটোরিয়ামসহ বিভিন্ন স্থাপনার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা রয়েছেন।

এসব কর্মচারীর নিয়োগের বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা ও আর্থিক প্রভাব যাচাই করতে গত ২০ জুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ও উপ-উপাচার্য ড. এমতাজ হোসেনকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরে দৈনিক মজুরিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের নিজ নিজ দপ্তরে কোনো চিঠি বা নোটিশ না দিয়ে সরাসরি মৌখিক সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় তাঁদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এফপি/মিব
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝