ছয় সন্তানকে লালন-পালন করে বড় করেছেন। জীবনের দীর্ঘ ৯৫টি বছর কাটিয়েছেন পরিবার ও সন্তানদের জন্য পরিশ্রম করে। অথচ জীবনের শেষপ্রান্তে এসে সেই বৃদ্ধ বাবার আশ্রয় হয়েছিল বাড়ির পাশের একটি গাছতলায়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন হৃদয়স্পর্শী খবর নজরে আসার পর বৃদ্ধ হাজী শামসুল হক মোল্লার খোঁজ নিতে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরণ গ্রামের ৯৫ বছর বয়সী হাজী শামসুল হক মোল্লার দুরবস্থার খবরটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান ও 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। এরপর তিনি তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কোটালীপাড়ার উত্তর হিরণ গ্রামে হাজী শামসুল হক মোল্লার বাড়িতে যায়। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা তাঁর শারীরিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি ও জীবনযাপনের খোঁজখবর নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বৃদ্ধের হাতে উপহার তুলে দেওয়া হয় এবং তাঁর প্রতি সহমর্মিতা ও পাশে থাকার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
সাক্ষাৎ শেষে কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন গণমাধ্যমকে বলেন, 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বৃদ্ধ হাজী শামসুল হক মোল্লার নিরাপদ আশ্রয়, প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা সরেজমিনে এসে জানতে পেরেছি, তাঁর ছেলেরা তাঁকে পুনরায় বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়েছেন এবং আমৃত্যু তাঁর দায়িত্ব পালনের আশ্বাস দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করব।'
তিনি আরও বলেন, একজন প্রবীণের সম্মানজনক জীবনযাপন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের নয়, সমাজেরও মানবিক দায়িত্ব।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৯৫ বছর বয়সী হাজী শামসুল হক মোল্লা জীবনের দীর্ঘ সময় কঠোর পরিশ্রম করে দুই ছেলে ও চার মেয়েকে বড় করেছেন। সম্প্রতি নিজের জমিজমা ছয় সন্তানের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার পর তিনি পারিবারিক অবহেলা ও আশ্রয়সংকটে পড়েন। একপর্যায়ে বসতবাড়ি ছেড়ে বাড়ির পাশের একটি গাছতলায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তাঁর এমন অসহায় অবস্থার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে এবং প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।
এদিকে, একজন প্রবীণের জীবনের শেষ সময় যেন অবহেলা, অনিশ্চয়তা ও আশ্রয়হীনতায় না কাটে, এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের। সন্তানদের কাছে ফিরে যাওয়ার পর বৃদ্ধ বাবার দায়িত্ব পালনের যে আশ্বাস পাওয়া গেছে, তা যেন বাস্তবেও প্রতিফলিত হয়—এমনটাই চান সচেতন মহল।
প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর সদস্য মাসুদ রানা লিটন, শাকিল আহমদ ও শাহাদাত হোসেন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, ছাত্রনেতা মশিউর রহমান মহান ও আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল-আরেফীনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'বৃদ্ধ বাবার গাছতলায় আশ্রয় নেওয়ার খবর জানতে পেরে আমি তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। তবে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল শামসুল হক মোল্লার বাড়িতে এসেছিল বলে আমি জানতে পেরেছি। প্রতিনিধি দলের কেউ এখন পর্যন্ত আমার সঙ্গে দেখা করেননি বা যোগাযোগ করেননি।
এফপি/মিব