প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:২০ পিএম (ভিজিটর : ৩৭)

সংগৃহীত ছবি
নীলফামারীর ডোমারে শেখ মাহাতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে সুদের কারবার, ফাঁকা স্ট্যাম্প ও চেকের পাতা ব্যবহার করে একাধিক মামলা দায়েরসহ নানা হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ডোমার প্রেসক্লাবের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী লিপু রায়, মুক্তা বেগম ও আনারুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা।
লিখিত বক্তব্যে তাঁরা জানান, শেখ মাহাতাব উদ্দিনের পিতা মৃত আমির হোসেন। তাঁর স্থায়ী বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার তিলছড়া কামারোল গ্রামে। প্রায় ১৬-১৭ বছর আগে তিনি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের হাবিবুল হক দুলালের মেয়েকে বিয়ে করেন। পরে উপজেলার নয়ানী বাকডোকরা গ্রামে ১৮ থেকে ২০ বিঘা জমি কিনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং সুদের ব্যবসা পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাঁরা ফাঁকা স্ট্যাম্প ও চেকের পাতায় স্বাক্ষর দিয়ে শেখ মাহাতাব উদ্দিনের কাছ থেকে সুদে টাকা নেন। পরবর্তী সময়ে সুদসহ ঋণের টাকা পরিশোধ করে স্ট্যাম্প ও চেকের পাতাগুলো ফেরত চাইলে তিনি তাঁদের কাছে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন। একপর্যায়ে ওই ফাঁকা স্ট্যাম্প ও চেকের পাতায় নিজের ইচ্ছামতো টাকার অঙ্ক বসিয়ে ঢাকার বিভিন্ন আদালতে ছয়টি মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, এসব মামলায় শেখ মাহাতাব উদ্দিন একাধিক স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। মামলাগুলোর কারণে কয়েকজনকে জেল-জরিমানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কারাভোগও করেছেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
লিখিত বক্তব্যে তাঁরা আরও দাবি করেন, শেয়ারবাজারের অর্থ আত্মসাতের পর শেখ মাহাতাব উদ্দিন নয়ানী বাকডোকরা গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কোনো স্বাধীন প্রমাণ উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, তাঁরা অত্যন্ত দরিদ্র। বসতভিটা ছাড়া তাঁদের আর কোনো সম্পদ নেই। মামলা ও হয়রানির কারণে তাঁরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। এসব হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তাঁরা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।
এফপি/মিব