পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খাসজমি দখল, বসতবাড়ির মাটি কেটে মাছের ঘের নির্মাণ, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদল নেতা জাহাঙ্গীর হাওলাদারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আছিয়া বেগম নামের এক নারী। মিথ্যা মামলায় তাঁর স্বামীকে কারাগারে পাঠানোরও অভিযোগ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আছিয়া বেগমের মেয়ে ঝুমুর ও পুত্রবধূ সারমিন উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আছিয়া বেগম অভিযোগ করেন, উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর মনসাতলী ও মেহেরপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ৩০ বছর ধরে সরকারি খাসজমিতে বসবাস করে আসছে তাঁদের পরিবার। তাঁরা ভূমিহীন।
তিনি বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদার তাঁর স্বামী মোস্তফা হাওলাদারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় গত ২৯ আগস্ট পুলিশ তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
আছিয়া বেগমের অভিযোগ, গত ৩১ আগস্ট জাহাঙ্গীর হাওলাদার তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে তাঁদের বসতবাড়ির মাটি কেটে মাছের ঘের তৈরি এবং নতুন ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আছিয়া বেগম নির্মাণকাজে বাধা দিলে তাঁকে ও তাঁর স্বজনদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
পরে তাঁরা মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খাসজমিতে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তবে এরপরও জাহাঙ্গীর হাওলাদার মাটি কাটা অব্যাহত রাখেন বলে অভিযোগ করেন আছিয়া বেগম।
এ ঘটনায় গত ৪ অক্টোবর কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। ইউএনও অভিযোগটি আমলে নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন বলে জানান আছিয়া বেগম।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৯ অক্টোবর দুপুরে জাহাঙ্গীর হাওলাদার তাঁর পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে নিয়ে তাঁকে এবং তাঁর স্বজনদের মারধর করেন। এ সময় তাঁদের স্বর্ণালংকারও লুট করা হয়। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তিনি কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে জাহাঙ্গীর হাওলাদার কর্তব্যরত চিকিৎসককে প্রভাবিত করে জোরপূর্বক তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়িয়ে নেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় আদালতে মামলা করেছেন জানিয়ে আছিয়া বেগম বলেন, বর্তমানে তাঁর স্বামী কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে জাহাঙ্গীর হাওলাদারের ভয়ে তিনি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
আছিয়া বেগম আরও অভিযোগ করেন, মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি জলিল হাওলাদারের মদদে জাহাঙ্গীর হাওলাদার তাঁদের ভোগদখলে থাকা জমি দখল ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহাঙ্গীর হাওলাদার। তিনি বলেন, বিদেশে থাকাকালে তিনি বারেক নামের এক ব্যক্তিকে টাকা দিয়েছিলেন। সেই টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বারেকের ছেলে, মোস্তফা হাওলাদার ও তাঁর ছেলে তাঁকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
তিনি আরও বলেন, মোস্তফা হাওলাদারের বসতবাড়ি নিয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। তাঁর পরিবারকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া কিংবা জমি দখলের কোনো চেষ্টা তিনি করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি জলিল হাওলাদার বলেন, 'আমি আছিয়ার পরিবারকে চিনি না। তাঁরা এ বিষয়ে কখনো আমার কাছে আসেননি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত রাসেল আহমেদ বলেন, 'বিষয়টি আমাদের জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে।
এফপি/মিব