গ্রাহকদের গড় বিলের ভোগান্তি কমাতে অচল, নষ্ট ও চুরি হওয়া সাড়ে ১০ হাজার পানির মিটার প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। ইতোমধ্যে গত ১২ অক্টোবর থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকরা মিটার রিডিং অনুযায়ী পানির বিল পাবেন এবং বিল নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ও অভিযোগ কমবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।
চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, অচল, নষ্ট ও চুরি হওয়া মিটারের কারণে যেসব গ্রাহকের ক্ষেত্রে গড় বিল নির্ধারণ করা হচ্ছে, তাঁদের মিটার প্রতিস্থাপনের জন্য গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে লিমিটেড টেন্ডারিং মেথড (এলটিএম) পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১২ অক্টোবর থেকে মিটার প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় মোট সাড়ে ১০ হাজার মিটার পরিবর্তন করা হবে।
ওয়াসা কর্তৃপক্ষ জানায়, পানির মিটার নষ্ট, অচল কিংবা চুরি হয়ে গেলে অনেক গ্রাহক সময়মতো তা পরিবর্তন করেন না। ফলে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের গড় বিল দিতে হয়। এতে নিয়মিত বিলের তুলনায় পার্থক্য দেখা দিলে অনেক গ্রাহক অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ করেন। গ্রাহকদের এ ভোগান্তি দূর করা, সেবার মান উন্নত করা এবং রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মিটার প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম নগরের হালিশহর বড়পোল এলাকায় সরেজমিনে মিটার প্রতিস্থাপন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি মিটার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা, গ্রাহকদের বিভিন্ন সমস্যা এবং মিটারসংক্রান্ত অভিযোগ ও প্রতিকারের বিষয়ে স্থানীয় গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় গ্রাহকরা মিটার প্রতিস্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং এর মাধ্যমে গড় বিলের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ওয়াসায় যোগদানের পর পানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়ন ও রাজস্ব আদায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ায় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাঁরা।
পরিদর্শনকালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা সম্মানিত গ্রাহকদের সেবা সহজীকরণে বদ্ধপরিকর। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গড় বিল, অতিরিক্ত বিল ও ভূতুড়ে বিলসংক্রান্ত নানা অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব অভিযোগের মূল কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের পানির মিটার নষ্ট, অচল কিংবা চুরি হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, গ্রাহকরা সময়মতো মিটার প্রতিস্থাপন না করায় ওয়াসাকে নিয়ম অনুযায়ী গড় বিল নির্ধারণ করতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে গ্রাহকদের সুবিধার্থে চট্টগ্রাম ওয়াসা সাড়ে ১০ হাজার অচল, নষ্ট ও চুরি হওয়া মিটার প্রতিস্থাপন করছে। এর ফলে গ্রাহকরা প্রকৃত মিটার রিডিং অনুযায়ী বিল পাবেন এবং ভূতুড়ে বিলসংক্রান্ত অভিযোগ থেকেও মুক্তি মিলবে।
তিনি আরও বলেন, মিটারের সঠিক রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল নির্ধারণ করা হলে রাজস্ব আদায়েও স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসবে। এ কার্যক্রম সফল করতে তিনি গ্রাহকদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) শারমিন আক্তার, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সাজিয়া পারভীন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রুমন দে, রাজস্ব কর্মকর্তা এরফানুল করিম সাজ্জাদ এবং সংশ্লিষ্ট মিটার পরিদর্শকরা।
এফপি/মিব