নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম। গত নয় মাসে সংসদ সদস্য কোথা থেকে কত টাকা নিয়েছেন, তার হিসাব এবং ব্যাংক ড্রাফটের নম্বরসহ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ করে কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন এই বিএনপি নেতা। তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।গত সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় এসব কথা বলেন রবিউল আলম। তাঁর ৫ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রবিউল আলমকে বলতে শোনা যায়, একটি অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য অভিযোগ করেছেন, উপজেলা বিএনপির নেতারা প্রতিটি ইউনিয়নে চিঠি দিয়ে টাকা চেয়েছেন। এ অভিযোগের জবাবে তিনি কোন ইউনিয়নের কাছে বিএনপি নেতারা টাকা চেয়েছেন, তার প্রমাণ দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংসদ সদস্য কার কাছে টাকা চেয়েছেন, সে বিষয়ে প্রমাণ উপস্থাপন করবেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যে রবিউল আলম বলেন, মহাদেবপুর- বদলগাছীর ইতিহাসে সর্বোচ্চ দুর্নীতিবাজ সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তিনি নেতা-কর্মীদের নিয়ে লড়াই করবেন। এ সময় তিনি সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ওঁর প্যান্ট-টাই যদি খুলে নিতে না পারি, আর রাজনীতি করব না।’
মহাদেবপুরে বিএনপির নামে কার্যালয় ও সাইনবোর্ড স্থাপনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের কর্মসূচি শেষে ওই সাইনবোর্ড টেনে ফেলে দেওয়া হবে।
রবিউল আলমের অভিযোগ, গত নয় মাসে সংসদ সদস্য কোথা থেকে কত টাকা নিয়েছেন, কোন ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ড্রাফটের নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে। এসব তথ্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে থাকায় এত দিন বিষয়গুলো প্রকাশ করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া একটি খাদ্যগুদাম থেকে তিন কোটি টাকার বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন এই বিএনপি নেতা। সার ডিলারশিপ এবং বিভিন্ন উন্নয়নকাজের বিল নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করেন তিনি। যেসব কাজ বাস্তবায়িত হয়নি, সেসব কাজের বিল কীভাবে পরিশোধ করা হয়েছে, তার হিসাবও প্রকাশ করার হুঁশিয়ারি দেন রবিউল আলম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রবিউল আলম বলেন, ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি সভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেছেন। এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
অন্যদিকে, তাঁর তোলা অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বলেন, ‘রাজনীতি করলে মানুষ এমন রাজনৈতিক কথা বলবে। বাংলাদেশ এখন তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে স্বাধীন। বিএনপি সবকিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছে। তাই লুকোচুরির কিছু নেই। তিনি (অভিযোগকারী বিএনপি নেতা) প্রমাণসহ জাতির সামনে আসুন।’
সাংবাদিকেরাও স্বাধীনভাবে খোঁজখবর নিয়ে নিজেদের মতো প্রতিবেদন করতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
এফপি/মিব