Dhaka, Tuesday | 3 November 2026
         
English Edition
   
Epaper | Tuesday | 3 November 2026 | English
শিরোনাম:

কেশবপুরে স্বামী-স্ত্রীকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি পুলিশের, গ্রেপ্তার ২

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ পিএম  (ভিজিটর : ৬)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

যশোরের কেশবপুরে ধানখেতের সেচযন্ত্রের পরিত্যক্ত গর্ত থেকে স্বামী-স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি দেখে ফেলায় তা গোপন রাখতে পরিকল্পিতভাবে ওই দম্পতিকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগম (৩৮) ও মোস্তফা কামাল নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের কমলাপুর ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানখেতে সেচযন্ত্রের পানি নিষ্কাশনের স্থানের একটি পরিত্যক্ত গর্তে দুটি অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে কেশবপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। পরে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতরা হলেন আলেক সর্দার (৪৫) ও তাঁর স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৮)। এ ঘটনায় নিহত দম্পতির মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২ নভেম্বর জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার মাগুরখালি গ্রামের নুর ইসলামের স্ত্রী। জেসমিন ও নিহত মাজেদা বেগম অভয়নগরের আকিজ জুট মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৩০ অক্টোবর সকালে মিল বন্ধ থাকায় বাড়ির কাজ শেষে মাজেদা ও জেসমিন ঘাস কাটতে মাঠে যান। ওই সময় মাজেদার স্বামী আলেকও মাঠে কাজ করছিলেন। মাঠে যাওয়ার পথে জেসমিনের সঙ্গে মোস্তফা কামাল নামে এক ব্যক্তির দেখা হয়। পুলিশের দাবি, তাঁদের মধ্যে প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস ধরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক চলছিল।

একপর্যায়ে মাঠে জেসমিন ও মোস্তফাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন মাজেদা। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা মাজেদা ও তাঁর স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে আলেক ও মাজেদাকে একটি ঘেরের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। তালতলা এলাকার ভেড়ির কাছে পৌঁছালে মোস্তফা কামাল ধারালো অস্ত্র দিয়ে আলেকের শরীর ও মাথায় আঘাত করেন। একই সময়ে জেসমিন মাজেদার ওড়না দিয়ে তাঁর গলায় ফাঁস দেন। পরে কাঁচি দিয়ে মাজেদার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে পুলিশের দাবি। এরপর দুজনের মরদেহ পুরোনো সেচযন্ত্রের গর্তে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ আরও জানায়, নিহত আলেক শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। গুরুতর আঘাতের পর গর্তে পড়ে যাওয়ায় তিনি সেখান থেকে বের হতে পারেননি।

জেলা পুলিশের দাবি, ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই পরিকল্পিতভাবে এ জোড়া হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনায় গ্রেপ্তার মোস্তফা কামাল কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালি গ্রামের মৃত কিসমত সরদারের ছেলে।

এদিকে স্বামী-স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এফপি/মিব
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝