বরগুনার আমতলীতে অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় সেলিম প্যাদা (৫৫) ও তাঁর স্ত্রী কহিনুর বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা সম্পর্কে অভিযুক্ত সবুজ মৃধার শ্বশুর-শাশুড়ি। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় সবুজ মৃধা পালিয়ে যান।
সোমবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাতে আমতলী উপজেলার পূর্ব চুনাখালী গ্রামে সেলিম প্যাদার বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে গ্রেপ্তার দুজনকে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে ডিবি পুলিশের একটি দল সেলিম প্যাদার বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় কহিনুর বেগমের শরীর তল্লাশি করে ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির রান্নাঘরে লুকিয়ে রাখা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে আরও ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ইয়াবা বহন ও মোড়কজাতকরণে ব্যবহৃত ব্যাগ, কসটেপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, সেলিম প্যাদার জামাতা সবুজ মৃধা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে শ্বশুর-শাশুড়ির বাড়িতে মজুত রাখতেন। পরে সেখান থেকে বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ ও বিক্রি করা হতো। তবে পুলিশের অভিযানের সময় তিনি পালিয়ে যান।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপজেলার চুনাখালী বাজার, চরখালী, কালিবাড়ী ও গোজখালী এলাকায় রাতের বেলায় মাদকের বেচাকেনা চলে। তাঁদের দাবি, মোটরসাইকেলচালক সায়েখ হাওলাদার ও তাঁর ভাই শাহীন হাওলাদার, বাবলু এবং রিনা বেগমও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এসব অভিযোগ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের জামাতা সবুজ মৃধা পালিয়ে গেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সবুজ মৃধা বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে শ্বশুর-শাশুড়ির বাড়িতে মজুত রাখতেন এবং সেখান থেকে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতেন।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন ও পলাতক সবুজ মৃধার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আমতলী থানায় মামলা হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এফপি/মিব