সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের জারলিয়া গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২টি পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ঘরবাড়ির পাশাপাশি ধান, হাঁস-মুরগি, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ ঘরে থাকা মূল্যবান মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সোমবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার জারলিয়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ একটি বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে একে একে ১২টি পরিবারের বসতঘর পুড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ঘরবাড়ি ও মালামাল রক্ষা করতে পারেননি।
সরেজমিনে দেখা যায়, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কোথাও পড়ে আছে পোড়া টিন ও কাঠের অংশ, কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পুড়ে যাওয়া আসবাবপত্র ও ঘরের ব্যবহার্য জিনিসপত্র। আগুনে পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও ঘরসংসারের সব সহায়-সম্বল হারিয়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১২ পরিবারের সদস্যরা হলেন—সুম লাল, অমিত লাল, কালিচরণ, মেতিলাল, জিনেস, হরিমল, রামাকান্ত, সুবল, গরমহন, দিরেন্দ্র, পমত ও খুশি লাল।
দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। দিরাই ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা শিশির দাস জানান, সড়ক যোগাযোগের সমস্যার কারণে তাঁদের পক্ষে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। গ্রামে যেতে নদীর পাড় অতিক্রম করতে হয়। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি নিয়ে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেও সফল হননি তাঁরা।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি সিলেটে অবস্থান করছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। যোগাযোগব্যবস্থার সমস্যার কারণে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। পরে স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ও সহায়-সম্বল হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অনেকের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও অবশিষ্ট নেই। নতুন করে ঘর নির্মাণ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তাঁরা।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্দশা লাঘবে দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জীব সরকার জানান, তিনি ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এফপি/মিব