Dhaka, Monday | 2 November 2026
         
English Edition
   
Epaper | Monday | 2 November 2026 | English
শিরোনাম:

কুতুবিয়ার বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় আলিমে পাসের হার ৬০.৯৪ শতাংশ

প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৩ পিএম  (ভিজিটর : ১০২)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা। নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি আশাব্যঞ্জক কিছু সাফল্য অর্জন করেছে। এবারের পরীক্ষায় ৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৬০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন দুজন শিক্ষার্থী।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফলে যখন হতাশার চিত্র দেখা যাচ্ছে, তখন বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন প্রতিষ্ঠানটির জন্য ইতিবাচক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে সামগ্রিক পাসের হার কমে যাওয়ায় ফলাফলের ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানো এখন প্রতিষ্ঠানটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

গত পাঁচ বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ছিল শতভাগ। ২০২৩ সালে তা ছিল ৯৫ দশমিক ১২ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮০ দশমিক ২৮ শতাংশ, ২০২৫ সালে ৮৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ৬০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। সর্বশেষ ফলাফলে পাসের হার কমলেও দুই শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ২৬ জন শিক্ষকসহ মোট ৩২ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। বিভিন্ন বিষয়ে এনটিআরসিএর সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকও এখানে নিয়োজিত আছেন। বিদ্যমান শিক্ষক, শিক্ষার পরিবেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার মান আরও উন্নত করার প্রত্যাশা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। তবে আলিম ও ফাজিল পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা প্রত্যাশিত পর্যায়ে না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাড়ানো, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের মতে, সন্তানদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধে গড়ে তুলতে দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদ্রাসায় পড়াশোনার আগ্রহ তৈরি করতে হবে।

তাঁদের মতে, বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় অভিজ্ঞ শিক্ষক, শিক্ষার পরিবেশ ও বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এসব সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান আরও উন্নত করা সম্ভব। এজন্য নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজরদারি, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পাঠদান কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন।

কুতুবদিয়ার শিক্ষা ও সংস্কৃতির ইতিহাসে বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিচিতি। এ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অনেকেই সমাজ ও দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শিক্ষক-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং এলাকাবাসীর ইতিবাচক ভূমিকার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আবারও শিক্ষার্থী আকর্ষণে সক্ষম হবে। সাম্প্রতিক ফলাফলের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে শিক্ষার মান ও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। ঐতিহ্য, অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং বিদ্যমান শিক্ষাসুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা আগামী দিনে কুতুবদিয়ার শিক্ষাক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের।

এফপি/মিব

সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝