বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে কৃষিকে শক্তিশালী করতে হবে। এ জন্য কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনের শুরুতে মন্ত্রী গোদাগাড়ী উপজেলার হাটপাড়া এলাকায় পদ্মা নদী থেকে পন্টুনের মাধ্যমে পাম্প ব্যবহার করে পানি উত্তোলন ও সরবরাহ কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। পরে তিনি সরমংলা খাল পরিদর্শন করেন। সেখানে কৃষক ও বিএমডিএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন।
এরপর গোদাগাড়ী উপজেলার কলিপুর-৩ এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। সেখানে নেট মিটারিং পদ্ধতিতে সেচের কাজে ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হয়।
মতবিনিময় সভায় কৃষিমন্ত্রী বলেন, এ এলাকার মানুষ কৃষিজীবী ও কৃষিবান্ধব। এখানকার মানুষ মনেপ্রাণে কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। কৃষির প্রতি তাঁদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা প্রশংসনীয়। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে কৃষিকে শক্তিশালী করতে হবে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষিকাজে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে শুধু বরেন্দ্র অঞ্চল নয়, বিশ্বব্যাপীই ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এ কারণে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই।
মন্ত্রী আরও বলেন, পদ্মা নদী থেকে পানি এনে কৃষিকাজে ব্যবহারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আরও সম্প্রসারণে সরকার একটি বড় প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করেছে। প্রকল্পটির প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন পাবে। এটি বাস্তবায়িত হলে বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার আরও বাড়বে।
সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ ও নেট মিটারিং প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় প্রায় ১৭ হাজার গভীর নলকূপকে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পে রূপান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। এতে কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সেচের কাজে ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের মাধ্যমে বিদ্যুতের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ ধরনের উদ্যোগ কৃষি ও জ্বালানি—উভয় খাতেই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এ সময় বিএমডিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. আবুল কাসেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাজিরুল ইসলাম, আব্দুল লতিফ, শিবির আহমেদ ও তরিকুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান ও মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফসহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিএডিসি ও বিএমডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় কৃষক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এফপি/মিব